ব্রেকিং নিউজ

সংবাদ বা বিষয় অনুসন্ধান করুন

24TV.Live
প্রচ্ছদ লাইভ টিভি সংবাদ খেলাধুলা ই-স্পোর্টস পত্রিকা ডিরেক্টরি যোগাযোগ
কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ
ক্যাটাগরি সমূহ:
জাতীয় আন্তর্জাতিক ই-স্পোর্টস দেশ ২৪ দেশ সংবাদ রাজনীতি অর্থনীতি খেলাধুলা
জাতীয় ফ্যাক্ট-চেকড

সীতাকুণ্ডে পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পাওয়া অদম্য রাব্বির পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

System Administrator • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬ • ৮৭ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:
সীতাকুণ্ডে পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পাওয়া অদম্য রাব্বির পাশে দাঁড়াল প্রশাসন
সীতাকুণ্ডে পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পাওয়া অদম্য রাব্বির পাশে দাঁড়াল প্রশাসন ছবি: 24TV.Live
24tv.live AI চালিত পোর্টাল
২৪tv.live — বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সম্পূর্ণ এআই-ভিত্তিক লাইভ টিভি, নিউজ ও স্পোর্টস পোর্টাল
ভিজিট করুন: 24tv.live
এই সংবাদটি অডিওতে শুনুন
স্বয়ংক্রিয় বাংলা ভয়েস রিডার (Web Speech API)

ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের কাছে যে কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মানতে বাধ্য, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের অদম্য মেধাবী তরুণ রফিকুল ইসলাম রাব্বি। জন্মগতভাবে দুই হাত ছাড়াই পৃথিবীতে আসা রাব্বি দমে যাননি বরং জীবনের প্রতিটি ধাপে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে তিনি পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চারদিকে প্রশংসার জোয়ার বইছে। এই অদম্য মেধাবীর সংগ্রামের গল্প শুনে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম রফিকুল ইসলাম। তিনি রাব্বির বাড়িতে গিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান এবং তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলার এই কৃতি শিক্ষার্থীর জীবনযুদ্ধ মোটেও সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই দুই হাত না থাকায় দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে পড়াশোনা—সবকিছুতেই তাকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু রাব্বি নিজের সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। তিনি তার পায়ের আঙুলের সাহায্যে কলম ধরে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করেন যা সাধারণ মানুষের হাতের লেখার চেয়েও সুন্দর ও সাবলীল। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি সীতাকুণ্ডের একটি স্থানীয় কলেজ থেকে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতিটি বিষয়ে চমৎকার ফলাফল করে জিপিএ-৫ নিশ্চিত করেন। তার এই অর্জনে তার পরিবার, শিক্ষক এবং সহপাঠীরা অত্যন্ত আনন্দিত। রাব্বির বাবা-মা জানান, অভাবের সংসারে রাব্বির পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু তার প্রবল ইচ্ছাশক্তির কারণে তারা কখনো হাল ছাড়েননি।

রাব্বির এই সাফল্যের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে রাব্বির বাড়িতে গিয়ে তার সাথে দেখা করেন। তিনি রাব্বির পা দিয়ে লেখার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তার অদম্য স্পৃহার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ইউএনও রাব্বির পরিবারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং জানতে পারেন যে আর্থিক সংকটের কারণে রাব্বির উচ্চশিক্ষা নিয়ে পরিবারটি চিন্তিত। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রাব্বির পরিবারকে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেন এবং ভবিষ্যতে তার পড়াশোনার খরচ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, রাব্বি সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম এবং তার মতো মেধাবীদের ঝরে পড়তে দেওয়া যাবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অত্যন্ত আন্তরিক। রাব্বির মতো যারা প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যেতে চায়, তাদের জন্য সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি স্থানীয় বিত্তবানদেরও রাব্বির মতো মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। রাব্বির এই জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি মাধ্যম। শারীরিক অক্ষমতা যে মেধার বিকাশে বাধা হতে পারে না, রাব্বি তা আবারও প্রমাণ করেছেন। প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপ রাব্বির আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে নতুন করে প্রাণ দিয়েছে।

ভবিষ্যতে রাব্বি একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করতে চান। তিনি মনে করেন, সঠিক সুযোগ এবং পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারবেন। তার এই দীর্ঘ পথচলায় যারা তাকে সাহস জুগিয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে উপজেলা প্রশাসনের এই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে তিনি তার জীবনের এক বড় মোড় হিসেবে দেখছেন। সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষ এবং সুশীল সমাজ রাব্বির এই সাফল্যে গর্বিত এবং তারা মনে করেন, রাব্বির এই গল্প সারা দেশের হাজারো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে। প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগের ফলে রাব্বির উচ্চশিক্ষার পথ এখন অনেকটাই মসৃণ হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এই সংবাদটির মূল তথ্য ও বিবরণ জাগো নিউজ থেকে সংগৃহীত। 24TV.Live এর এআই নিউজ এডিটর সম্পাদকীয় নীতি ও মানদণ্ড বজায় রেখে এটি পুনর্লিখন করেছে।

মন্তব্য (০)

আপনার মতামত লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!

আরও পড়তে পারেন

বেটা ঘোষণা: এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।
মতামত দিন