গবেষণার মাঠ ফেরতের দাবিতে গণপূর্তের কুশপুত্তলিকা দাহ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ (বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ (বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে বের হয়ে চীন মৈত্রী সিগন্যাল অবরোধ করেন। পরে গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘গবেষণায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, ‘আমাদের মাঠ আমাদের থাক, আমলা-সচিব বাইরে থাক’, ‘মাঠ যখন হারিয়ে যাবে, প্রজাতিরা কোথায় যাবে’ এবং ‘টেক ব্যাক, টেক ব্যাক, সাউ ল্যান্ড, সাউ ল্যান্ড’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের সরকারি পরিকল্পনা বাতিল করে পুরো মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য মাঠটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারা বলেন, মাঠ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এর আগে, গত ২৯ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর একই দাবিতে চীন মৈত্রী সিগন্যাল অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ২ নভেম্বর মাঠের অবশিষ্ট স্থাপনা সরিয়ে মাঠের একাংশে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দেন তারা।
এ ছাড়া গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর কোনো ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, ‘আমাদের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে, এ জন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু আমরা বলতে চাই, আজ যদি ঢাকা শহর থেকে গাছপালা হারিয়ে যায়, তাহলে অক্সিজেন পাবেন কোথা থেকে। শহরের বুকে যে পাখিগুলো আছে, সেগুলো কোথায় যাবে।
আপনাদেরও খাবারের প্রয়োজন হয়। এই খাবারের জোগান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেয়। গবেষণার মাঠ হারিয়ে গেলে আপনারা খাবার কোথায় পাবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
গবেষণার মাঠ ফেরতের দাবিতে গণপূর্তের কুশপুত্তলিকা দাহ—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।





মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।