‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা প্রতিবাদের ভাষা নয় বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা প্রতিবাদের ভাষা নয় বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ, মতামত বা সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত থাকতেই পারে। এর প্রতিবাদ করার সুন্দর ও সভ্য পদ্ধতি রয়েছে।
কিন্তু কোনো পত্রিকা জনসম্মুখে ছিঁড়ে ফেলে বা অবমাননাকর আচরণের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। বিবৃতিতে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী আরও বলেন, সম্প্রতি রাজনৈতিক নেতা রাশেদ খান লাইভে এসে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা জনসম্মুখে ছিঁড়ে ফেলার যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ তা সমর্থন করে না। মতের অমিলের কারণে সংবাদপত্রের প্রতি এমন আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের বহুত্ববাদী পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।
তিনি বলেন, একটি সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন বা বক্তব্যের সঙ্গে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার প্রতিবাদ করা যায়, প্রতিবাদলিপি পাঠানো যায়, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা যায় কিংবা আইনি পন্থায় বিষয়টি মোকাবিলা করা যায়। কিন্তু পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, অপমান করা বা উত্তেজনাপূর্ণ প্রদর্শনী কোনোভাবেই সমস্যার সমাধান হতে পারে না। জমিয়ত মহাসচিব আরও বলেন, আজ একটি পত্রিকার মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে যদি সেটিকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়, আগামীকাল ভিন্নমতের অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমও একই ধরনের আচরণের শিকার হতে পারে।
তাই রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মতভিন্নতাকে সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা জরুরি। রাশেদ খানের ওই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবাদ হতে হবে যুক্তি দিয়ে, তথ্য দিয়ে ও সভ্য ভাষায়। সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা বা অবমাননা করা প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি। আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা প্রতিবাদের ভাষা নয়: জমিয়ত মহাসচিব—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, রাজনীতি অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!