যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন স্তরে ১০০ মুসলিম প্রার্থী জিতেছেন, কীভাবে জয় পেলেন তাঁরা
আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের (সিএআইআর) তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অন্তত ৯৭ জন মার্কিন মুসলিম জয়ী হয়েছেন।
আরও এক ডজনের বেশি মুসলিম প্রার্থী এখনো সব ভোট গণনার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিভিন্ন কাউন্টির নিজস্ব নিয়ম এবং ডাকযোগে আসা ভোট গণনার পদ্ধতির ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করছে। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে যা অভিনব ঘটনা। গত বছর বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতে নিউইয়র্ক নগরের মেয়র হয়েছেন জোহরান মামদানি। তাঁর ওই জয় মুসলিম প্রার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যাঁরা আগে কখনো নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনার কথা ভাবেননি, তাঁদের ওপর জোহরান মামদানির জয়ের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এবার প্রাইমারি (দলীয় প্রাথমিক বাছাই) নির্বাচনের বাধা পেরিয়ে ১৬৮ জন মার্কিন মুসলিম প্রার্থী মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পান। যুক্তরাষ্ট্রে চূড়ান্ত নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগে প্রাইমারিতে নিজ দলের অন্যান্য প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিততে হয়।
এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতে সাতজন মার্কিন মুসলিম ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছেন।
এই সাতজনের মধ্যে ছয়জন যাচ্ছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। তাঁরা হলেন বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান সদস্য ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব, আন্দ্রে কারসন ও লতিফা সাইমন। তাঁদের সঙ্গে নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছেন আদম হামাউই ও দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের।
ক্যালিফোর্নিয়ার চতুর্দশ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে আয়েশা ওয়াহাব জয় নিশ্চিত করতে পারলে তিনিও বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেবেন। তবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে থাকলেও স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাঁর জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এবার একজন মুসলিম মার্কিন সিনেটে যাচ্ছেন। তাঁর নাম আবদুলরহমান আল–সাইয়েদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন। আগামী ছয় বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
সিএআইআরের হিসাব অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আরও ৩৯টি পদে মুসলিম মার্কিন প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এসব পদের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল, অঙ্গরাজ্য আইনসভা ও অঙ্গরাজ্য সিনেটের সদস্য রয়েছেন।
কাউন্টি ও পৌরসভা পর্যায়ে জয়ী হয়েছেন ১৬ জন। এ ছাড়া শিক্ষা ও স্কুল বোর্ডের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ২৭ জন মার্কিন মুসলিম। আটজন বিচারক নির্বাচিত হয়েছেন।
মার্কিন মুসলিম প্রার্থীরা এমন এক সময়ে নির্বাচনে নিজেদের সর্বকালের সেরা সাফল্য পেলেন, যখন দেশটিতে মুসলিমবিরোধী মনোভাব ও বক্তব্য গত এক প্রজন্মের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে—বিশেষ করে রিপাবলিকানদের মধ্যে।
মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমপ্যাক), সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসও) এবং ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের (আইএসপিইউ) মতো সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ মুসলিম। দেশটিতে মোট মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। সংখ্যায় কম হলেও গণমাধ্যমে তাঁদের নিয়ে আলোচনা ও অনলাইনে তাঁদের ওপর আক্রমণের মাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোটের দিনের আগমুহূর্তেও এমপ্যাক সতর্ক করে বলেছিল, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর কৌশল মার্কিন মুসলিম ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে।
যদিও গত এক বছরে মুসলিম ভোটারদের নিবন্ধনের হার অন্তত ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আর অন্তত একটি জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত মুসলিম ভোটারদের ৯৩ শতাংশই ভোট দিয়েছেন।





মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।