ঢাকার ধামরাইয়ের যাদবপুর ভবন মোহন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ছয়জন শিক্ষক থাকলেও পরীক্ষা দেওয়া ২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র চারজন, বাকি ২০ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছ...
ঢাকার ধামরাইয়ের যাদবপুর ভবন মোহন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ছয়জন শিক্ষক থাকলেও পরীক্ষা দেওয়া ২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র চারজন, বাকি ২০ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে।
গত শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসে না এবং অনেকেই ক্লাস চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকে, যা শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নষ্ট করছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পাঠদানে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানে আগে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ চালু থাকলেও বর্তমানে শুধু মানবিক শাখা সক্রিয় রয়েছে।
এ বছর কেবল মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা আক্তার বলেন, এ বছর প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র চারজন পাস করেছে। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই দায়ী করে বলেন, আমাদের ধারণা ছিল শিক্ষার্থীরা আরও ভালো করবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী কেবল একটি বিষয়ে ফেল করেছে। বিশেষ করে আইসিটি বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস ও যথাযথ পাঠদান না হওয়ায় ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-মামুন জানান, ধামরাই উপজেলায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষার সার্বিক ফলাফল সন্তোষজনক নয়। আগামীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আরও ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে কাউন্সেলিং করা হবে। আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
২৪ পরীক্ষার্থীর ২০ জনই ফেল, পাস করেছেন মাত্র ৪ জন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, অর্থনীতি ও বাণিজ্য অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!