রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ / দুপুর ১২:০৩ঢাকা, বাংলাদেশ যোগাযোগ ↗
এইমাত্র
জাতীয়ব্রেকিং

মসজিদ হচ্ছে ইবাদত, বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের স্থান: প্রিন্স উইলিয়াম

মসজিদ হচ্ছে ইবাদত, বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের স্থান: প্রিন্স উইলিয়াম
মসজিদ হচ্ছে ইবাদত, বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের স্থান: প্রিন্স উইলিয়াম

ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম (বর্তমান প্রিন্স অব ওয়েলস) রাজকীয় দায়িত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বেশি পরিচিত। কিন্তু ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার দাবি রাখে।...

ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম (বর্তমান প্রিন্স অব ওয়েলস) রাজকীয় দায়িত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বেশি পরিচিত। কিন্তু ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার দাবি রাখে। বিশেষ করে মুসলিমবিদ্বেষ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে তার অবস্থান, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের বিষয়ে তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও বহুত্ববাদী চিন্তার পরিচয় পাওয়া যায়।

উইলিয়ামের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে—ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এক করে না দেখা, মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয় ও মর্যাদার স্বীকৃতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষের সামাজিক ঐক্য। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে দাঁড়িয়ে ইসলামের পক্ষে বক্তব্য। প্রিন্স উইলিয়ামের ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সম্পর্কে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যায় ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল।

ওই দিন তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ পরিদর্শন করেন। একই বছরের ১৫ মার্চ সেখানে এবং লিনউড মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ৫১ জন মুসল্লি নিহত হন। হামলাটি ছিল মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিচালিত বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

হামলার পর নিহতদের পরিবার, আহত ব্যক্তি, বেঁচে যাওয়া মুসল্লি এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি জানাতে উইলিয়াম সেখানে যান। তার বক্তব্যের শুরুতেই ছিল আরবি অভিবাদন—আসসালামু আলাইকুম। তিনি বলেন, মসজিদ হচ্ছে ইবাদত, বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের স্থান; এটি সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি আশ্রয়স্থল।

সন্ত্রাসী হামলাকারী এমন একটি স্থানে ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, যে স্থান মানুষের ঐক্য ও পরোপকারের প্রতীক। উইলিয়ামের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বকে ইসলামের প্রকৃত চেহারা দেখিয়েছে—শান্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ধর্ম হিসেবে। তিনি আরো বলেন, কোনো একটি সম্প্রদায় যখন বিদ্বেষ ও সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তখন হিজাব পরা কিংবা আজান প্রচারের মতো সাধারণ ধর্মীয় আচরণও ভীতসন্ত্রস্ত মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আশ্বাস তৈরি করতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হামলা বরং সমাজের অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে মুসলিম বন্ধুদের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এই বক্তব্যের তাৎপর্য শুধু নিহত মুসলমানদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি স্পষ্টভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়কে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং ইসলামকে সহিংসতার সঙ্গে এক করে দেখার প্রবণতার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও পটভূমির মানুষের মুসলিম পরিবারগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংকটকালে পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে। এখানে তার বক্তব্যের একটি বিশেষ দিক লক্ষণীয়। তিনি মুসলমানদের শুধু সন্ত্রাসী হামলার শিকার একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে উপস্থাপন করেননি; বরং তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক সংহতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, চরমপন্থার সব রূপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। তার মতে, ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা প্রমাণ করেছে, ঘৃণার বৈশ্বিক মতাদর্শ মানুষকে বিভক্ত করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা ও মানবিকতার শক্তি জয়ী হতে পারে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সরকারি ওয়েবসাইটে তার এই বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি এবং জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের টাগেসপিগেলও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। পাকিস্তানের বাদশাহী মসজিদ সফর: মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ। প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী প্রিন্সেস ক্যাথরিন ২০১৯ সালের ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পাকিস্তান সফর করেন।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই সফর ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সমসাময়িক পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ। ১৮ অক্টোবর তারা লাহোরের ঐতিহাসিক বাদশাহী মসজিদ পরিদর্শন করেন। মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত এই মসজিদ উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী স্থাপত্য নিদর্শন।

মসজিদে তাদের স্বাগত জানান ঐতিহাসিক ও লেখক ফকির সৈয়দ আয়াজউদ্দিন এবং মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল খাবির আজাদ। তারা রাজদম্পতিকে মসজিদের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী এবং ধর্মীয় গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন। মসজিদে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরও আন্তধর্মীয় আলোচনায় অংশ নিতে দেখা যায়।

এ সময় মসজিদের ইমাম পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করেন এবং সেগুলোর ইংরেজি অর্থ ব্যাখ্যা করেন। মসজিদের স্থাপত্যের বিশালত্ব ও পরিবেশের স্বস্তি দেখে রাজদম্পতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তাদের এই সফরে মুসলিম ঐতিহ্য ও মোগল স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।

উইলিয়ামের বাবা চার্লস ২০০৬ সালে এবং মা প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানা ১৯৯৬ সালে একই মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন। মসজিদের খতিবের সঙ্গে আলাপে উইলিয়াম তাদের পরিবারের সঙ্গে মসজিদটির দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। বায়তুল আকসা মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন প্রিন্স উইলিয়াম।

প্রিন্স উইলিয়াম ২০১৮ সালের ২৮ জুন ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য সফরের শেষ দিনে তার এই পরিদর্শন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছিল। ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো সদস্যের ১৯৪৮ সালের পর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ওই স্থান পরিদর্শনের ঘটনা ছিল এটি।

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে স্বাগত জানান জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াক্‌ফ বিভাগের পরিচালক শেখ আজ্জাম আল-খতিব। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জর্ডান পরিচালিত ধর্মীয় ট্রাস্টের কর্মকর্তারা। ইসরাইলি নিরাপত্তাকর্মীদের একটি দলও তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল।

প্রিন্স উইলিয়াম আল-আকসা মসজিদ ও এর প্রাঙ্গণে অবস্থিত সোনালি গম্বুজের কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দ্য রক পরিদর্শন করেন। মুসলমানদের কাছে আল-হারাম আল-শরিফ নামে পরিচিত এই প্রাঙ্গণ ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। প্রিন্স উইলিয়ামের ২০১৮ সালের সফর তাই কেবল একটি রাজকীয় পরিদর্শন ছিল না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের সংবেদনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর হিসেবেও বিবেচিত হয়েছিল।

মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদা। উইলিয়ামের ক্রাইস্টচার্চ বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়কে আড়াল করে কেবল নাগরিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচরণ, হিজাব এবং আজানের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন।

এর মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ কোনো সমাজের জন্য স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। কোনো সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হলে তাদের ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার পরিবর্তে সেই পরিচয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটি ইউরোপীয় সমাজে মুসলিম অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশেষ করে হিজাব, মসজিদ, ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রকাশ্যে ধর্মীয় পরিচয় ধারণের অধিকার নিয়ে যখন বিভিন্ন দেশে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন উইলিয়ামের বক্তব্য ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে তার বক্তব্য থেকে ব্রিটেনের প্রতিটি অভিবাসন, ধর্মীয় পোশাক কিংবা ধর্মীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত নীতির প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন অনুমান করা যাবে না। তিনি মূলত আক্রান্ত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে কথা বলেছেন।

ইসলামবিদ্বেষ ও চরমপন্থার মধ্যে পার্থক্য। উইলিয়ামের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি মুসলমানদের সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতাকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ক্রাইস্টচার্চের ভাষণে তিনি সন্ত্রাসী হামলাকে একটি বিকৃত মতাদর্শের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চার্লসটনের গির্জায় হামলা, পিটসবার্গের সিনাগগে হত্যাকাণ্ড, লন্ডনের ফিনসবারি পার্কে হামলা এবং শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। অর্থাৎ তার বিবেচনায় সহিংস চরমপন্থা কোনো একটি ধর্মের একক সমস্যা নয়। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষের বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংসতার পেছনে ঘৃণা ও উগ্র মতাদর্শ কাজ করে।

এই অবস্থান ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো অপরাধীর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে গোটা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা হলে সামাজিক বিভাজন বাড়ে এবং চরমপন্থীরা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। উইলিয়াম তাই ঘৃণার মোকাবিলায় ভালোবাসা, সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের বৃহত্তর ধর্মীয় সহাবস্থাননীতি। উইলিয়ামের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাংবিধানিক ও সামাজিক ভূমিকার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হয়। ব্রিটিশ রাজা একই সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গভর্নর।

কিন্তু আধুনিক বহুধর্মীয় ব্রিটেনে রাজপরিবারের দায়িত্ব শুধু খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য রক্ষা নয়; বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটেনের মুসলিম জনগোষ্ঠী দেশটির সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে রাজপরিবারের সদস্যদের মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ, মসজিদ পরিদর্শন এবং ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে।

উইলিয়ামের ক্রাইস্টচার্চ সফর ও পাকিস্তানের বাদশাহী মসজিদ পরিদর্শন এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার বাবার দীর্ঘদিনের আন্তধর্মীয় সংলাপের কর্মসূচিকে সরাসরি উইলিয়ামের নিজস্ব দার্শনিক প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান।

প্রিন্স উইলিয়ামের ইসলামবিষয়ক প্রকাশ্য বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি মুসলমানদের প্রতি সম্মান, ধর্মীয় পরিচয়ের নিরাপত্তা, সামাজিক সহাবস্থান এবং ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে তার বক্তব্য ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে তিনি শুধু নিহত মুসলমানদের প্রতি শোক প্রকাশ করেননি; বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানবিকতা, পারিবারিক সংহতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশংসা করেছেন।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বকে ইসলামের শান্তি ও বোঝাপড়ার চেহারা দেখিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের বাদশাহী মসজিদ সফরে তার অংশগ্রহণ মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তার প্রকাশ্য অবস্থান মূলত মানবিকতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তার এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মর্যাদা স্বীকার করার ওপর। উইলিয়ামের বক্তব্যের মূল শিক্ষা হচ্ছে, ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক সংহতির মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে তার প্রকাশ্য অবস্থান থেকে অন্তত এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।

সূত্র: আমার দেশ

মতামত (০)

এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।

আরও পড়ুন

জাতীয়

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসীদের ঢল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

অভিবাসী ও শরণার্থীদের ঢলে স্পেনের এল হিয়েরো দ্বীপে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। নভেম্বরের শুরু থেকে তিন হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ...

জাতীয়

২ উইকেট হারিয়ে ৯৮ রানের লিড ওয়েস্ট ইন্ডিজের

দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত ৯৮ রানের লিড তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর বাংলাদেশের প্রাপ্তি দুই উইকেট। এরপর মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে দু...

জাতীয়

ই-সিগারেট-সোনাসহ শাহজালালে দুই দিনে আটক ৩২ লাখ টাকার পণ্য

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পৃথক অভিযানে ৯০ পিস ই-সিগারেট বা ভেপ, ১৬৬ কার্টন স...

জাতীয়

শাহজালালে ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদের সহায়তায় ১ ঘণ্টায় হারানো ব্যাগ উদ্ধার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিসিটিভি ক্যামেরায় খুঁজে এক ঘণ্টার চেষ্টায় যাত্রীর হারানো ব্যাগ উদ্ধার করে মালিকের হাতে তুলে...

বিজ্ঞপ্তি

এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।

মতামত দিন ↗
অ্যাপ ডাউনলোড Android Android TV