বাংলাদেশ লেবার পার্টির পক্ষ থেকে রাজধানী ঢাকার মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বকেয়া বেতন-বোনাস, অন্যায্য চাকরিচ্যুতি রোধ এবং অন্যান্য পাওনা আদায়ের দাবিতে আন্দোলনরত তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা, হামলা, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং নির্বিচারে শ্রমিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতির মাধ্যমে লেবার পার্টির মুখপাত্র মো. নাজমুল ইসলাম তালুকদার দলের এই কঠোর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে লেবার পার্টির মুখপাত্র স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশে বর্তমানে লাগামহীন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন চরম দুর্বিষহ ও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বকেয়া বেতন-বোনাস, ওভারটাইম ও নাইট বিল পরিশোধের মৌলিক দাবি জানাতে গিয়ে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
মো. নাজমুল ইসলাম তালুকদার তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের যুক্তিসংগত দাবি ও মৌলিক অধিকারকে উপেক্ষা করে পুলিশি দমন-পীড়ন কিংবা কারখানা মালিকপক্ষের বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ কখনো চিরতরে দমন করা যাবে না। বলপ্রয়োগের নীতি দিয়ে ক্ষোভ দমানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। অথচ আন্দোলনরত শ্রমিকের ওপর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলা হচ্ছে, যা পুরো শিল্প খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুখপাত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কারখানা মালিকদের প্রতি অবিলম্বে সব তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও সকল পাওনা পরিশোধের কঠোর দাবি জানান। এর পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে কারখানায় লে-অফ ঘোষণা বন্ধ করা এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের স্বপদে পুনর্বহাল ও তাদের বকেয়া প্রদানের দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে নাজমুল ইসলাম তালুকদার চলমান হামলায় আহত শ্রমিকদের আশু সুচিকিৎসা সুনিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক পোশাক শ্রমিকদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুখপাত্র আরও বলেন, মিরপুরসহ দেশের নানা শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে ডাকা আন্দোলন কর্মসূচিতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ, শারীরিক নির্যাতন এবং যে হামলা ও অরাজকতার সৃষ্টি করা হয়েছে, তার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি জোর দাবি জানান। তৈরি পোশাক খাতকে স্থিতিশীল রাখতে হলে শ্রমিকদের দাবিদাওয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে সংলাপের পথ উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টির গতিপ্রকৃতি নীতিনির্ধারক ও সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!