নিয়োগকালীন কর্মএলাকা অবসর পর্যন্ত বহাল রাখার দাবি নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের

নিয়োগের সময় নির্ধারিত কর্মএলাকা অবসর পর্যন্ত বহাল রাখা, কর্মরত নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের অধিক্ষেত্র বিভক্তির উদ্যোগ বন্ধ এবং জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন নিকাহ্ রেজিস্ট্রাররা।
নিয়োগের সময় নির্ধারিত কর্মএলাকা অবসর পর্যন্ত বহাল রাখা, কর্মরত নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের অধিক্ষেত্র বিভক্তির উদ্যোগ বন্ধ এবং জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন নিকাহ্ রেজিস্ট্রাররা। শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় নিকাহ্ নিবন্ধক ঐক্যজোটের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের চারটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যজোটের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সারাজীবনের শ্রম, মেধা ও সম্মান দিয়ে গড়ে তোলা কর্মক্ষেত্র থেকে কাজীদের বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।
অতীতে একই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে একাধিক নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ফলে অনেক কাজী অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। নতুন করে কর্মরত কাজীদের নিয়োগকালীন কর্মএলাকা বিভক্ত করে একাধিক কাজী নিয়োগ করা হলে হাজারো পরিবার জীবিকার সংকটে পড়বে। মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নিকাহ্ নিবন্ধক ঐক্যজোটের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ কাজী সমিতির সভাপতি ও পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ডক্টর এ এস এম কাদের কিবরীয়া বলেন, কাজীরা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ চান না; তাঁরাও এ দেশের নাগরিক।
তাঁদের কর্মক্ষেত্র ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগের সময় যে এলাকা কাজীদের কর্মএলাকা হিসেবে নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তা অবসর পর্যন্ত বহাল রাখতে হবে। একজন কাজীর কর্মক্ষেত্র কেড়ে নেওয়া মানে একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও অনাহারের মুখে ঠেলে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, কাজীদের সঙ্গে বিএনপি সরকার এ ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ করবে না বলে তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস। বর্তমানে যেসব এলাকায় নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য রয়েছে, সেখানে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। কিন্তু কর্মরত কাজীদের অধিক্ষেত্র বিভক্ত করে একাধিক কাজী নিয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা বলেন, কাজীদের জীবিকা নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। কর্মরত কাজীদের জীবিকার শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে না নিয়ে নিয়োগকালীন অধিক্ষেত্র অবসর পর্যন্ত বহাল রাখতে হবে। মানববন্ধনে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের যোগ্য সন্তানদের সরাসরি নিয়োগের বিধান প্রণয়ন, বিবাহ নিবন্ধন ফি বৃদ্ধি এবং অস্থায়ী নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিশেষ বিধান বাতিলের দাবিও জানানো হয়।
এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা ও পল্টনের কাজী ইকবালের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ইন্ধনে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগসাজশ করে ভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি ও তৎপরতা চালানোর অভিযোগ তোলেন বক্তারা। তাঁদের দাবি, এ ধরনের তৎপরতার মাধ্যমে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে বিএনপির মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরির অপচেষ্টা চলছে, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করছে। মানববন্ধনে জাতীয় নিকাহ্ নিবন্ধক ঐক্যজোটের মুখপাত্র ও সাবেক ছাত্রনেতা কাজী ছাব্বীর, সদস্যসচিব কাজী মোজাম্মেল হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদ, সমন্বয়ক কাজী মো. শামসুল হক, মোহাম্মদ আব্দুর রব, কাজী মাছিহুর রহমান, কাজী হাবিবুল্লাহ সাচ্চু, কাজী মহিউদ্দিন সাদেক, কাজী মেহেদী হাসান নোমান ও কাজী আবুল বশরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
নিয়োগকালীন কর্মএলাকা অবসর পর্যন্ত বহাল রাখার দাবি নিকাহ্ রেজিস্ট্রারদের—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।



মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।