ব্রেকিং নিউজ

সংবাদ বা বিষয় অনুসন্ধান করুন

24TV.Live
প্রচ্ছদ লাইভ টিভি সংবাদ খেলাধুলা ই-স্পোর্টস পত্রিকা ডিরেক্টরি যোগাযোগ
ক্যাটাগরি সমূহ:
জাতীয় আন্তর্জাতিক ই-স্পোর্টস দেশ ২৪ দেশ সংবাদ রাজনীতি অর্থনীতি খেলাধুলা
আন্তর্জাতিক ব্রেকিং ফ্যাক্ট-চেকড

দিল্লির রাজপথে মুখোমুখি ইন্ডিয়া জোট ও বিজেপি: ভোটার তালিকা ও শিখ দাঙ্গা ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজধানী

System Administrator • রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬ • ১০৯ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:
দিল্লির রাজপথে মুখোমুখি ইন্ডিয়া জোট ও বিজেপি: ভোটার তালিকা ও শিখ দাঙ্গা ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজধানী
দিল্লির রাজপথে মুখোমুখি ইন্ডিয়া জোট ও বিজেপি: ভোটার তালিকা ও শিখ দাঙ্গা ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজধানী ছবি: 24TV.Live
24tv.live AI চালিত পোর্টাল
২৪tv.live — বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সম্পূর্ণ এআই-ভিত্তিক লাইভ টিভি, নিউজ ও স্পোর্টস পোর্টাল
ভিজিট করুন: 24tv.live
এই সংবাদটি অডিওতে শুনুন
স্বয়ংক্রিয় বাংলা ভয়েস রিডার (Web Speech API)

ভারতের রাজধানী দিল্লির রাজপথ আজ রাজনৈতিক উত্তাপে উত্তাল হয়ে উঠেছে। একদিকে বিরোধী দলগুলোর জোট 'ইন্ডিয়া' নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার ইস্যু তুলে পাল্টা কর্মসূচি পালন করছে। দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে সমবেত হয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তেজস্বী যাদবের মতো শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতারা। তাদের এই 'চলো দিল্লি' অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা। বিরোধীদের অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য এক বড় হুমকি।

রামলীলা ময়দানের এই জনসভায় উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং হরিয়ানা থেকে হাজার হাজার কংগ্রেস কর্মী সমর্থক যোগ দিয়েছেন। এছাড়া সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি এবং বামপন্থী দলগুলোর ক্যাডাররাও এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল গত মাসে এই 'চলো দিল্লি, ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও' কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিরোধীদের পক্ষ থেকে একটি প্রতীকী প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা এবং সংসদীয় তদারকি ছাড়াই ফর্ম-৬ পরিবর্তন করা। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

পাল্টা জবাবে বিজেপি দিল্লির পশ্চিম অংশে একটি বিশাল মিছিলের আয়োজন করেছে। হরি নগর বাস ডিপো থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি অভিযোগ করেছে যে, কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে শিখ দাঙ্গার বার্ষিকীর দিনে এই সমাবেশের আয়োজন করে দাঙ্গার ক্ষতকে উপহাস করছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বিরোধীদের এই আন্দোলনকে 'নাটক' এবং 'নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ জানে যে এই সমাবেশ আসলে একটি রাজনৈতিক থিয়েটার ছাড়া আর কিছুই নয়। বিজেপির নেতারা ১৯৮৪ সালের দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে সংহতি প্রকাশ করে কংগ্রেসের অতীত কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন।

এই রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দিল্লির সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে দিল্লির ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে যানজট এবং রাস্তা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। অটোমোটিভ পার্টস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিনয় নারাং জানিয়েছেন, চাঁদনি চক, সদর বাজার এবং কাশ্মীরি গেটের মতো পাইকারি বাজারগুলো এই আন্দোলনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বাইরের ব্যবসায়ীরা দিল্লি আসা বন্ধ করে দিয়েছেন, যার ফলে কয়েক হাজার কোটি টাকার লোকসান হতে পারে। তবে রাহুল গান্ধী ব্যবসায়ীদের এই উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন যে, বিজেপি ভয় পেয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে কেনাকাটা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, এতে ব্যবসায়ীরা বরং উপকৃতই হবেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রামলীলা ময়দান এবং এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মিন্টো ব্রিজ থেকে শুরু করে যন্তর মন্তর এবং সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ট্রাফিক ডাইভারশনের কারণে সাধারণ যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইন্ডিয়া জোট এবং বিজেপির এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিল্লির রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি থাকলেও, সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিরোধীরা নতুন কোনো চমক দেখাবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।

তথ্যসূত্র: এই সংবাদটির মূল তথ্য ও বিবরণ NDTV থেকে সংগৃহীত। 24TV.Live এর এআই নিউজ এডিটর সম্পাদকীয় নীতি ও মানদণ্ড বজায় রেখে এটি পুনর্লিখন করেছে।

মন্তব্য (০)

আপনার মতামত লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!

আরও পড়তে পারেন

বেটা ঘোষণা: এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।
মতামত দিন