অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলায় একটি সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে দশম শ্রেণির দুই ছাত্রীর ওপর চলন্ত চেইনসো দিয়ে নৃশংস হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ২১ বছর বয়সী যুবক হেমন্ত ওরফে দুম্মুকে গুলি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা করার সময় সে ধারালো ছুরি ও পাথর নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি চালায়, যাতে সে গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত হেমন্ত একটি বনাঞ্চলে লুকিয়ে আছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। কর্মকর্তারা যখন তাকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন সে আত্মসমর্পণ না করে একটি ছুরি নিয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে। এই ধস্তাধস্তিতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অভিযুক্তকে রুখতে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে। অনন্তপুর জেলার রাপ্তাদু জেলা পরিষদ হাই স্কুলে তখন স্বাভাবিক পাঠদান চলছিল। অভিযুক্ত হেমন্ত হঠাৎ করেই একটি চলন্ত চেইনসো হাতে নিয়ে দশম শ্রেণির একটি কক্ষে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক রাজেশ্বরী সেই মুহূর্তের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে জানান যে, স্কুলে তখন নির্মাণ কাজ চলছিল, তাই চেইনসোর শব্দ শুনে তারা ভেবেছিলেন হয়তো কোনো মিস্ত্রি কাজ করছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই যুবকটি শ্রেণিকক্ষের মাঝখানে চলে আসে এবং ছাত্রীদের ওপর হামলা শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে গীতিকা ও লক্ষ্মী নামের দুই ছাত্রীকে মারাত্মকভাবে জখম করে।
হামলায় আহত দুই ছাত্রীর মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য কুমার যাদব জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর ডান হাত শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া তার ঘাড়, মুখ, মাথার খুলি এবং পাঁজরে একাধিক হাড় ভাঙা ও গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। অনন্তপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তাকে অন্তত ১০ ইউনিট রক্ত দিতে হয়েছে। তার রক্তনালী এবং মেরুদণ্ডের সি-৩ কশেরুকাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
অনন্তপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডি মল্লেশ্বরী এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে, আক্রান্ত ছাত্রীটি পলিট্রমা, হাইপোভোলেমিক শক এবং নিউমোথোরাক্সে ভুগছে। তার মুখের হাড় এবং হাতের ওপরের হাড় বা হিউমারাসে জটিল ফ্র্যাকচার রয়েছে। এছাড়া তার মাথার ত্বক, মুখমণ্ডল, ঘাড়, কাঁধের পেছনের অংশ, কান এবং চোখের পাতায় অসংখ্য গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। এই বর্বরোচিত হামলা পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে। পুলিশ ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আহত ছাত্রীদের চিকিৎসার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টির গতিপ্রকৃতি নীতিনির্ধারক ও সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!