ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিসরের সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কৌশলগত ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর কূটনৈতিক ও ভূরাজনীতিগত উদ্বেগ। সুয়েজ খাল ও জ্বালানি অবকাঠামোর সুরক্ষায় কায়রোকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সৌদি আরব এবং মিসরের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারত্বে আবদ্ধ। তবে ইয়েমেনের সংঘাতে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রিয়াদকে রক্ষায় কায়রোর সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা এক জটিল সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তেল সরবরাহ লাইন অক্ষুণ্ণ রাখতে মিসরের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতে মিসর অতীতেও কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে এলেও, সরাসরি সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়া কায়রোর জন্য কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিসর যদি ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়, তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে, সুয়েজ খাল অভিমুখে গমনকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুমেদ পাইপলাইন, জ্বালানি টার্মিনাল এবং দেশের বিশাল জ্বালানি মজুদাগারগুলো হুতিদের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। কায়রোর নীতিনির্ধারকদের এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গভীরভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে, কারণ মিসরের অর্থনীতি অনেকাংশে সুয়েজ খালের রাজস্ব এবং স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
বর্তমানে মিসর নিজেই অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে গিয়ে দেশের মূল অর্থনৈতিক ধমনীগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলা কায়রোর জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় মিত্রদের আর্থিক সহায়তার ওপর মিসরের নির্ভরশীলতার বিষয়টিও পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। ফলে সৌদি স্বার্থ রক্ষা এবং নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনীতি পরিচালনা করাই এখন মিসরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং লোহিত সাগরের সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট নিরাপদ রাখতে কায়রো তাই সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা।