ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক ও প্রচারযুদ্ধ তীব্রতর করেছে। বিতর্কিত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের নথিপত্রকে তারা রিয়াদের বিরুদ্ধে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কৌশল থেকে সরে এসে এবার এক অভিনব ও মনস্তাত্ত্বিক প্রচারযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। চলমান এই দ্বন্দ্বে তাদের নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠেছে প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের চাঞ্চল্যকর কিছু গোপন নথি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে এপস্টেইনের বিভিন্ন যোগাযোগ এবং তার ব্যক্তিগত দ্বীপের সঙ্গে পবিত্র কাবা শরিফের সম্পর্কের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে সামনে এনে বিশ্বজুড়ে রিয়াদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে হুথি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সামরিক সংঘাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে হুথিরা এখন তথ্য ও প্রচারযুদ্ধকে নিজেদের প্রধান কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে। জেফরি এপস্টেইনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তির নাম সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে মুসলিম বিশ্বের সামনে সৌদি নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষকরা।
তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে হুথিদের এই অপপ্রচারের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রিয়াদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনো বড় প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে যখন নানামুখী শান্তি প্রচেষ্টা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
পরিশেষে, বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তি এবং সংবেদনশীল নথিকে কীভাবে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, হুথিদের এই কৌশল তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এই নতুন প্রচারযুদ্ধ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে কোনো পক্ষই স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে অপব্যবহার করে নতুন সংঘাতের জন্ম দিতে না পারে।