দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশনে আজ শনিবার থেকে থামছে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন। ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে এবং ক্যাম্পাসে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলওয়ে স্টেশনে আজ শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রাবিরতি শুরু করতে যাচ্ছে রাজশাহীগামী দুটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন—'তিতুমীর এক্সপ্রেস' ও 'সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস'। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, স্মারকলিপি পেশ এবং জোরালো দাবির ফলশ্রুতিতে রেলওয়ে কতৃপক্ষের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। এর ফলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় যাত্রীদের দীর্ঘ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার রাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ ও স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করতে দেখা যায়। সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষার পাশাপাশি স্টেশনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাবি স্টেশনটি আধুনিকায়ন এবং এর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ইতিপূর্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নানা দেনদরবার করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ সময় বাঁচানোর ক্ষেত্রে এই দুই ট্রেনের যাত্রাবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলানো এবং সেবার মান বাড়াতে এই রুটে ট্রেনের যাত্রাবিরতি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ ছিল।
আজকের উদ্বোধনী দিনে ট্রেন দুটি স্টেশনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, বরং পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষও আন্তঃনগর ট্রেন সেবার সুফল ভোগ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এমন জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত অব্যাহত রাখবে।