যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া ও বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া মুসলিমবিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা এবং সামাজিক বৈষম্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। সম্প্রতি ফ্লোরিডার কোইনোনিয়া ওরশিপ সেন্টারে আয়োজিত ‘মাল্টিপল ফেইথ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই জোরালো মন্তব্য করেন। বিল ক্লিনটন স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে কোনো মানুষকে খাটো করা বা হেয় প্রতিপন্ন করার এই নেতিবাচক সংস্কৃতি তাকে অত্যন্ত বিরক্ত এবং মানসিকভাবে পরিশ্রান্ত করে তুলেছে। মার্কিন সমাজে বিভাজনের এই প্রবণতা দূর করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করেন, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রোতাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেন যে, মানবজাতিকে বিভিন্ন গোত্র ও জাতিতে বিভক্ত করা হয়েছে কেবল পারস্পরিক পরিচিতি ও সদ্ভাবের জন্য, কোনো ধরনের ঘৃণা বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের জন্য নয়। বিল ক্লিনটনের এই উদার ও মানবিক উদ্ধৃতি মার্কিন রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছে। ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্রে এ ধরনের সংকীর্ণতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বিল ক্লিনটনের এই বক্তব্য বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও বৈষম্য আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায় দেশটির একজন প্রভাবশালী সাবেক রাষ্ট্রপতির মুখ থেকে এ ধরনের বলিষ্ঠ বক্তব্য সমাজকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। বিশেষ করে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও জোরালো ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিল ক্লিনটন মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা, সহানুভূতি এবং মানবিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি মনে করেন, আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকেও বৈষম্যের বীজ চিরতরে দূর করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সমতা রক্ষা না করা হলে তা সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় অগ্রগতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তার এই প্রাজ্ঞ ও সময়োপযোগী বক্তব্য মার্কিন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।