জাপান প্রস্তাবিত আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডোরে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কৌশলগত স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই কেবল এই বন্দর পরিচালনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা উচিত।
জাপানের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডোর এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের উদ্যোগটি দেশের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি গভীর সমুদ্রবন্দর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, তবে এর পূর্ণ সুফল প্রাপ্তি নিয়ে এখন সচেতন মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর ট্রানজিট বা করিডোর সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার ন্যায্য পাওনা এবং কৌশলগত নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত করতে পারছে, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাতারবাড়ী বন্দরের বহুমুখী উপযোগিতা মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল—সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ভারসাম্য এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এর সরাসরি সংযোগ। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে এই বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক কিংবা ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা থাকা বাঞ্ছনীয়। অন্যথায়, দেশের বিশাল বিনিয়োগে নির্মিত এই কৌশলগত অবকাঠামো থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পররাষ্ট্র নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গবেষকরা মনে করেন, যেকোনো বড় অবকাঠামোগত চুক্তির ক্ষেত্রে সমতার ভিত্তিতে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। মাতারবাড়ী বন্দর যেন কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের স্বার্থরক্ষার করিডোরে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে নীতিনির্ধাতকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়ে এই মেগা প্রকল্পের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত ব্যবহারের নীতিমালা চূড়ান্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।