বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে ইরান। উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁক ি ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক মিশনগুলোতে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিরাপত্তা ঝুঁকি এতটাই গুরুতর যে, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত মার্কিন জনবল উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর মোড়। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি যখন এমনিতেই উত্তাল, ঠিক তখন ইরানের এই সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার চলমান শীতল লড়াই এখন সরাসরি সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ওয়াশিংটন জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও সুরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে। যেকোনো ধরনের আকস্মিক হামলা প্রতিহত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বেশি সংঘাতময় করে তুলতে পারে।