জীবনের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা দিক না থাকায় এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন রায়হান। বিশৃঙ্খল জীবনযাপন ও উদাসীনতা তাকে এক ধরনের স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মাঝে মাঝে রায়হানের নিজের কাছেই নিজেকে একটি স্কেলার রাশির মতো মনে হয়। যার সামান্য কিছু মান হয়তো অস্তিত্বের বিচারে বিদ্যমান, কিন্তু চলার পথে কোনো নির্দিষ্ট দিক বা গন্তব্য নেই। দিক না থাকার এই জটিলতা তার জীবনযাত্রায় একদম শুরু থেকেই জড়িয়ে রয়েছে। জামা-জুতা, বই-খাতা কিংবা গোসল-খাওয়া—দৈনন্দিন জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই তার কখনো কোনো সুসংহত বা গোছানো মনোভাব ছিল না। বাসা বা কর্মপরিবেশে থাকলে সে অলস সময় কাটাত এবং দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমাতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত। বেলা বাড়লে মাঝেমধ্যে পড়াশোনা বা কাজের অজুহাত দিলেও মূলত একধরনের উদ্দেশ্যহীনতার মাঝেই তার সময় কেটে যায়।
মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যান্ত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক যুগে দিকহীন জীবনযাপন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ বাড়িয়ে দিচ্ছে। রায়হানের এই উদাসীন আচরণ কেবল তার ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে তার সামাজিক ও পেশাগত জীবনকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া বেঁচে থাকা মানে স্রোতের বিপরীতে হাল ছেড়ে দিয়ে ভেসে যাওয়ার শামিল, যা একসময় গভীর মানসিক অবসাদের জন্ম দেয়।
পরিবার ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং এবং ইতিবাচক জীবনমুখী মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। রায়হানের মতো যুবসমাজ যেন লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়, সেজন্য পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা এবং লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমেই কেবল এই ধরনের স্থবিরতা কাটিয়ে একটি গতিশীল ও সফল জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।