বরিশাল নগরীর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সাশ্রয়ী করতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। চলতি বছরের মধ্যেই প্রথম ধাপে প্রায় এক লাখ গ্রাহকের পোস্টপেইড মিটার পরিবর্তন করে এই আধুনিক মিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন হবে।
বরিশাল নগরীর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ। দীর্ঘদিনের পুরনো পোস্টপেইড ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করতে এবং গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সাড়ে পাঁচ হাজার প্রিপেইড মিটার সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যা স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের মধ্যেই প্রথম ধাপে নগরীর প্রায় এক লাখ গ্রাহকের বর্তমান পোস্টপেইড মিটার পরিবর্তন করে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে বরিশাল নগরীর সকল বিদ্যুৎ গ্রাহককে এই আধুনিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হবে। নতুন এই প্রিপেইড মিটার চালুর ফলে গ্রাহকরা নিজেদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ও স্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, যা বিদ্যুৎ অপচয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা চিরতরে দূর হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের মিটার রিডিংয়ের নামে হয়রানি বা ভুল বিলের বিড়ম্বনা পোহাতে হবে না। ঘরে বসেই খুব সহজে মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে রিচার্জ করার সুবিধা থাকায় এই ব্যবস্থা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
যদিও কিছু এলাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে গ্রাহকদের কিছুটা অভ্যস্ত হতে সময় লাগছে, তবুও বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সার্বিক এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরিশাল নগরীর বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব আদায় আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।