ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক আক্রমণের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে। গত কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর ফলে গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। সর্বশেষ বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই অস্থিরতার পেছনে প্রধানত দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের চলমান ও বর্ধিত আক্রমণ বাজারে বড় ধরনের সরবরাহের বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্ব এবং আঞ্চলিক সংঘাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম এমন এক সময়ে বাড়ল যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি করোনা মহামারী ও ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তেলের এই ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিবহন খরচ, উৎপাদন ব্যয় এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ও এর মিত্রদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা অতিরিক্ত তেল সরবরাহের ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রেখেছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।