সরকার নির্ধারিত ৭৭৭ টাকার ভর্তুকিমূল্যে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে মিলছে না। বছরে লক্ষাধিক সিলিন্ডার সরবরাহ করা হলেও সাধারণ ভোক্তারা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও, সরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারের দাম মাত্র ৭৭৭ টাকা। বিশাল এই মূল্য পার্থক্যের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে সরকারি এলপিজির চাহিদা ব্যাপক। কিন্তু নানা প্রশ্ন ও রহস্যের জট পাকিয়ে কম দামি এই সরকারি গ্যাসের দেখা মিলছে না খোলা বাজারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারিভাবে প্রতি বছর প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে ছাড়ার কথা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকিমূল্যে এই জ্বালানি সরবরাহের মূল উদ্দেশ্য হলো সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘব করা এবং বাজারে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা। অথচ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোথাও নির্ধারিত এই সরকারি সিলিন্ডার সহজে পাওয়া যায় না। ডিলার ও পরিবেশকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। অন্যদিকে ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, কারসাজির মাধ্যমে সরকারি সিলিন্ডারগুলো খোলা বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে অথবা নির্দিষ্ট কিছু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে।
খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুষ্ঠু মনিটরিং এবং কার্যকর তদারকির অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। সরকারি ডিলাররা অনেক সময় সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার বিক্রি না করে কালোবাজারে বা বাণিজ্যিক খাতে বেশি দামে বিক্রি করে দেন। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ ভর্তুকির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারের বিশাল অঙ্কের ভর্তুকির সুফল চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও একটি অসাধু চক্রের পকেটে। এতে সরকারের মহৎ উদ্যোগটি পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং সরবরাহ চেইন পুনর্গঠন জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। অবিলম্বে সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের প্রকৃত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসুলভ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি, ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত অডিট করার মাধ্যমে প্রকৃত ভোক্তাদের হাতে ভর্তুকির গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।