ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ‘প্রতীকী অভিশংসন’ কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় কড়া ভাষায় আক্রমণ শাণিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, বিরোধীরা যখন একটি প্রতীকী সংসদ তৈরিই করেছে, তখন সেখানে রাহুল গান্ধীকে একজন ‘ছায়া প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বসিয়ে দেওয়া উচিত। কংগ্রেসের এই কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী এবং দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে শাসক দল। বিজেপি অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচনে জয়ী হতে ব্যর্থ হয়ে এখন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করছে কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা।
বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত উপহাসের সুরে বলেন, “আমার বিনীত অনুরোধ হলো, দয়া করে সংসদ ভেঙে দেবেন না। আপনারা যে প্রতীকী সংসদ তৈরি করেছেন, সেখানে ট্রেজারি বেঞ্চে রাহুল গান্ধীকে একটি কুর্তা-পাজামা পরিয়ে বসিয়ে দিন—টি-শার্টটি এবার ছেড়ে দিন—এবং সেখানে প্রতিদিন তাঁর ভজন-কীর্তন করুন আর তাঁকে ‘প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী’ বলে ডাকুন।” পাত্রের এই মন্তব্য মূলত রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের প্রতি বিজেপির দীর্ঘদিনের তাচ্ছিল্যেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ত্রুটি সংশোধন বা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা নয়, বরং যেকোনো উপায়ে ক্ষমতার পালাবদল বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটানো। জনগণের ম্যান্ডেট না পেয়ে তারা এখন ভিন্ন পথে সরকার দখলের স্বপ্ন দেখছে বলে তিনি দাবি করেন।
কংগ্রেসের এই প্রতীকী অভিশংসনের মূলে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার ক্ষমতাসীন বিজেপিকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করছেন। বিশেষ করে একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের পর এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) সংক্রান্ত অনেক সিদ্ধান্ত অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের অজান্তেই নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগকে পুঁজি করে কংগ্রেস একটি প্রতীকী সংসদ অধিবেশন আয়োজন করে এবং সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের ‘জনসাধারণের অভিশংসন’ প্রক্রিয়া শুরু করে। তারা বর্তমান এনডিএ সরকারকে ‘অবৈধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেছে যে, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে কারচুপি করা হয়েছে।
সম্বিত পাত্র তাঁর বক্তব্যে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসার (AISA) নেত্রী নেহা বোরার ভূমিকারও সমালোচনা করেন। নেহা বোরা সম্প্রতি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিলে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। পাত্র অভিযোগ করেন, নেহা বোরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সফলতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যেখানে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল। বিজেপি নেতার মতে, কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগীরা ভারতেও বাংলাদেশ বা নেপালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, ভারত কোনো ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ নয় এবং এখানে পাকিস্তানের মতো সেনাবাহিনী বা পুলিশ বিদ্রোহ করবে—এমন চিন্তা করা অবান্তর।
বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের সমালোচনা করে সম্বিত পাত্র আরও বলেন যে, যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। তিনি মন্তব্য করেন, “ভারত কেবল যন্তর মন্তরের দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি বিশাল দেশ।” তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরোধীরা বারবার ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীকে খাটো করে দেখছে এবং সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো জাতীয় গৌরবের বিষয়গুলো নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে উৎখাত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সামগ্রিকভাবে, কংগ্রেসের প্রতীকী সংসদকে একটি রাজনৈতিক সার্কাস হিসেবে বর্ণনা করে বিজেপি দাবি করেছে যে, রাহুল গান্ধী এবং তাঁর সহযোগীরা বাস্তববিবর্জিত এক জগতে বাস করছেন।
পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টির গতিপ্রকৃতি নীতিনির্ধারক ও সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।



এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!