বাংলাদেশের ছোটপর্দার বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা নীলা সম্প্রতি তাঁর ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের বিপরীতে পরপর তিনটি নাটকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তবে এই জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভিন্ন গল্প। নীলা জানিয়েছেন, পর্দায় তাঁর অভিনীত ‘ঝগড়াটে’ চরিত্রগুলো দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হলেও বাস্তব জীবনে এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি গুরুতর শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁর চিকিৎসক তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি যেন আর কোনো ঝগড়াটে চরিত্রে অভিনয় না করেন। মূলত এই ধরনের চরিত্রের জন্য যে পরিমাণ উচ্চকণ্ঠ এবং শারীরিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তা তাঁর গলার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঠিকমতো কথা বলতে না পারা এবং ক্রমাগত অসুস্থ থাকার কারণে তিনি এখন এই ধরনের কাজ থেকে নিজেকে কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মোশাররফ করিমের সঙ্গে নীলার জুটিকে দর্শকেরা কেন এত পছন্দ করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের চেনা গণ্ডির বাইরে গিয়ে তিনি কিছু কাজ করেছেন। বিশেষ করে ‘জামাই বউ অতি চালাক’ নাটকটি তাঁকে এক নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে। সেখানে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে একজন ঝগড়াটে গ্রামীণ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। নীলা স্বীকার করেন যে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মোটেও ঝগড়াটে নন এবং ঝগড়া করতে গিয়ে নিজের অনুভূতিগুলো ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারতেন না। এই ঘাটতি পূরণ করতে তিনি তাঁর মায়ের সাহায্য নিয়েছিলেন। টানা তিন-চার দিন মায়ের সঙ্গে বসে কীভাবে ঝগড়া করতে হয়, তার ভাষা ও ভঙ্গি রপ্ত করেছিলেন। পর্দার সেই নিখুঁত ঝগড়া মূলত কঠোর অনুশীলনেরই ফল। তবে এখন গলার সমস্যা এবং মানসিক চাপের কারণে তিনি পরিচালকদের অনুরোধ করছেন যেন তাঁকে এই ধরনের চরিত্রে আর কাস্ট না করা হয়। যদিও তিনি সব কাজ একেবারে ছেড়ে দিচ্ছেন না, তবে এখন থেকে চিত্রনাট্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সচেতন থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
নীলাঞ্জনা নীলার ক্যারিয়ারের গ্রাফ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মাঝে তিনি নাটক থেকে কিছুটা বিরতি নিয়েছিলেন। সেই সময়টা তিনি মূলত চলচ্চিত্রে মনোনিবেশ করেছিলেন। এ পর্যন্ত তিনি তিনটি সিনেমায় কাজ করেছেন, যার মধ্যে একটি মুক্তি পেয়েছে এবং বাকি দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি মাধ্যম নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না; গল্প এবং চরিত্র পছন্দ হলে তিনি যেকোনো মাধ্যমেই কাজ করতে প্রস্তুত। মজার ব্যাপার হলো, অনেকেই মনে করেন বিয়ের পর নীলার কাজের পরিমাণ এবং মান দুটোই বেড়েছে। এই বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন যে, বিয়ের সঙ্গে কাজের একটি পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খুব সহজেই সুযোগ পেয়ে যাওয়ায় তিনি কাজের গুরুত্ব ঠিকমতো অনুধাবন করতে পারেননি। কিন্তু বিয়ে মানুষকে অনেক বেশি পরিণত এবং দায়িত্বশীল করে তোলে। জীবনের প্রতি এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অভিনয়ে আরও বেশি মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে।
অভিনয় জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে নীলা জানান, একবার কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি শুটিং দেখে তাঁর মনে হয়েছিল যে তাঁর জায়গা আসলে ওখানেই। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি পুনরায় অভিনয়ে ফিরে আসেন এবং এখন অভিনয়ই তাঁর জীবনের সবকিছু। ভবিষ্যতে তিনি নিজেকে আরও কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে পরীক্ষা করতে চান। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে। বর্তমানে তিনি ভিন্নধারার সিনেমার চেয়ে বাণিজ্যিক ও বৈচিত্র্যময় কাজে বেশি আগ্রহী। কাজের বাইরে অবসর সময়ে তিনি নিজের যত্ন নিতে পছন্দ করেন। যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েই তাঁর অবসর কাটে। সব মিলিয়ে নীলাঞ্জনা নীলা এখন এক পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর এবং দর্শকদের ভালো কিছু কাজ উপহার দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।



এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!