ব্রেকিং নিউজ

সংবাদ বা বিষয় অনুসন্ধান করুন

24TV.Live
আমাদের অফিসিয়াল অ্যাপ:
লাইভ টিভি অ্যাপ (Android APK) Smart Tv App (Android TV APK)
প্রচ্ছদ লাইভ টিভি সংবাদ খেলাধুলা ই-স্পোর্টস পত্রিকা ডিরেক্টরি যোগাযোগ
কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ
ক্যাটাগরি সমূহ:
জাতীয় আন্তর্জাতিক ই-স্পোর্টস দেশ ২৪ দেশ সংবাদ রাজনীতি অর্থনীতি খেলাধুলা
রাজনীতি ফ্যাক্ট-চেকড

‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার পাঠচক্র

System Administrator • সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬ • ১২০ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:
‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার পাঠচক্র
‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নিয়ে সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার পাঠচক্র ছবি: 24TV.Live
24tv.live AI চালিত পোর্টাল
২৪tv.live — বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সম্পূর্ণ এআই-ভিত্তিক লাইভ টিভি, নিউজ ও স্পোর্টস পোর্টাল
ভিজিট করুন: 24tv.live
এই সংবাদটি অডিওতে শুনুন
স্বয়ংক্রিয় বাংলা ভয়েস রিডার (Web Speech API)

সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভাপল্লিকবি জসীমউদ্‌দীনের কালজয়ী কাব্যোপন্যাস ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’। এটি গ্রামবাংলার প্রকৃতি, লোকজ সংস্কৃতি, সামাজিক বাস্তবতা, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য সাহিত্যিক উপস্থাপন। ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত কাব্...

সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভাপল্লিকবি জসীমউদ্‌দীনের কালজয়ী কাব্যোপন্যাস ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’। এটি গ্রামবাংলার প্রকৃতি, লোকজ সংস্কৃতি, সামাজিক বাস্তবতা, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য সাহিত্যিক উপস্থাপন। ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত কাব্যোপন্যাসটি পাঠককে এমন এক গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের জীবন একে অপরের পরিপূরক।

বইটি গ্রামবাংলার প্রকৃতির জীবন্ত চিত্রায়ণ। নদী, খাল, বিল, সবুজ মাঠ, ফসলের খেত, গাছপালা, পাখির ডাক, মেঠোপথ কিংবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা—প্রতিটি বিষয় লেখক এমন মমতা ও নৈপুণ্যের সঙ্গে তুলে ধরেছেন, যেন পাঠক বইয়ের পৃষ্ঠা ছেড়ে বাস্তবেই কোনো গ্রামীণ জনপদে উপস্থিত হয়েছেন। প্রকৃতি এখানে নিছক সৌন্দর্যের উপাদান, মানুষের জীবন, অনুভূতি ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কাব্যোপন্যাসটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে সোজন ও দুলীকে ঘিরে। ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের হয়েও তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে ভালোবাসার সম্পর্ক। কিন্তু ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে সমাজের প্রচলিত বিভেদ, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা যখন অধিক প্রভাব বিস্তার করে, তখন তাদের ভালোবাসাও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়।

লেখক এই সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শুধু দুটি মানুষের আবেগ-অনুভূতিই প্রকাশ করেননি; তৎকালীন সমাজব্যবস্থার অসংগতি ও মানুষের তৈরি বিভাজনের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেছেন। বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে হিন্দু-মুসলমানের পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির চিত্র। একই গ্রামের দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ-বেদনা ভাগ করে নেওয়া, একে অপরের উৎসব-পার্বণে অংশগ্রহণ, সামাজিক অনুষ্ঠানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এসব বিষয় লেখক অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করেছেন।

কোথাও ধর্মীয় পরিচয় মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি; মানবিক সম্পর্কই প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজের এমন কিছু চিত্র পাঠককে ভাবিয়ে তোলে, যেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। এক সম্প্রদায়ের আনন্দে অন্য সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ কিংবা একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সামাজিক সম্প্রীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে।

বর্তমান সময়ের সামাজিক বাস্তবতায়ও এর বার্তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়া, পারস্পরিক অসহিষ্ণুতা কিংবা বিভাজনের প্রবণতা আমাদের সমাজে বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়। অথচ জসীমউদ্‌দীন তাঁর এই সাহিত্যকর্মে এমন এক গ্রামীণ সমাজের চিত্র এঁকেছেন, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি মানবিক সম্পর্কও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।

মানুষের মধ্যে বিভেদের স্থান নেই। সম্প্রীতি ও সহমর্মিতাই যে সমাজকে সুন্দর করে তুলতে পারে, বইটি যেন সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

লেখকের ভাষা, ছন্দ, উপমা ও আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার কাব্যোপন্যাসটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। গ্রামীণ মানুষের মুখের ভাষা ও লোকজ সংস্কৃতিকে সাহিত্যে তুলে ধরার ক্ষেত্রে জসীমউদ্‌দীনের দক্ষতা অনস্বীকার্য। তাঁর লেখায় কৃত্রিমতার চেয়ে স্বাভাবিকতা বেশি, আর সেই স্বাভাবিকতাই পাঠকের সঙ্গে কাহিনির এক নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করে।

লেখক গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্যই তুলে ধরেননি, তিনি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দারিদ্র্য, সামাজিক অবস্থান, জীবনসংগ্রাম, শ্রেণিগত বৈষম্য ও নানা সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন। ফলে গ্রামবাংলার যে চিত্র পাঠকের সামনে স্পষ্ট হয়, তা কেবল কল্পনার কোনো সৌন্দর্যমণ্ডিত জগৎ নয়; বরং বাস্তব জীবনের নানা অনুষঙ্গে সমৃদ্ধ একটি সমাজের প্রতিচ্ছবি। ৩১ অক্টোবর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরিতে জসীমউদ্‌দীনের বিখ্যাত ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ বইটি নিয়ে পাঠচক্র করেছে সুনামগঞ্জ বন্ধুসভা।

পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সৌরভ সরকার, সাধারণ সম্পাদক তাজকিরা হক, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক শাহজাহান আলম সিদ্দিকী, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার পাল, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক নাছিফ আজিজ চৌধুরী, বন্ধ আরিফুল ইসলাম, সাফওয়ান হাসান, তাসনিম নিগার ও অনিক দাস।

তথ্যসূত্র: এই সংবাদটির মূল তথ্য ও বিবরণ প্রথম আলো থেকে সংগৃহীত। 24TV.Live এর এআই নিউজ এডিটর সম্পাদকীয় নীতি ও মানদণ্ড বজায় রেখে এটি পুনর্লিখন করেছে।

মন্তব্য (০)

আপনার মতামত লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!

আরও পড়তে পারেন

বেটা ঘোষণা: এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।
মতামত দিন