রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ / রাত ৩:০৪ঢাকা, বাংলাদেশ যোগাযোগ ↗
এইমাত্র
জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডেটা সেন্টার ও এআই শিল্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডেটা সেন্টার ও এআই শিল্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডেটা সেন্টার ও এআই শিল্প

ছবি: সংগৃহীতযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমতের স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। দেশজুড়ে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত ৪১টি ভোটাভুটির প্রায় সব কটিতেই ডেটা সেন্টার নির্মাণ প্রত্যাখ্যান বা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। কেবল নর্থ ডাকোটার ছোট শহর হারউ...

ছবি: সংগৃহীতযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমতের স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। দেশজুড়ে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত ৪১টি ভোটাভুটির প্রায় সব কটিতেই ডেটা সেন্টার নির্মাণ প্রত্যাখ্যান বা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। কেবল নর্থ ডাকোটার ছোট শহর হারউডে এ ধরনের বিধিনিষেধের প্রস্তাব নাকচ হয়েছে।

নির্বাচনের ফল বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটা সেন্টার নিয়ে উদ্বেগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দুই দলেরই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৫৭ শতাংশ রিপাবলিকান নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ সীমিত করার পক্ষে। তবে এই বিরোধিতা ভোটের মাঠেও প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের আগ্রহ ছিল।

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রকল্প ‘ডেটা সেন্টারস অন দ্য ব্যালট’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ডেটা সেন্টার নিয়ে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটির মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব কটিতেই নির্মাণ প্রত্যাখ্যান বা সীমিত করার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার আভাস মিলেছে। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে রেডবাড কনসালটিং।

দুটি এলাকার ভোট গণনা এখনো চলছে। তবে সেখানেও ডেটা সেন্টার নির্মাণ প্রত্যাখ্যান বা সীমিত করার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একমাত্র ব্যতিক্রম নর্থ ডাকোটার হারউড শহর।

৮০০ জনেরও কম মানুষের বসবাস এই শহরে। সেখানে বড় শিল্পপ্রকল্প, যেমন ডেটা সেন্টার নির্মাণের আগে স্বাধীন পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ভোটে নাকচ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ডেটা সেন্টারবিরোধী অবস্থান একটি দলীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুতের বিল এবং কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে এই বিরোধিতা জড়িয়ে গেছে। এআইয়ের বিস্তার, বাড়ছে ডেটা সেন্টার। যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গত এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এরই মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ডেটা সেন্টার রয়েছে। আরো দেড় হাজারের বেশি নির্মাণাধীন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ এই নির্মাণযজ্ঞের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি।

তবে এর ফলে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল বিজনেস বিভাগের ডিন ভাস্কর চক্রবর্তী আলজাজিরাকে বলেন, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন অংশে উদ্বেগ বাড়ছে। মানুষের আশঙ্কা, এআই তাদের চাকরি কেড়ে নিতে পারে।

বৃহত্তর অর্থনীতিতেও এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে তারা চিন্তিত। তবে এই উদ্বেগ এখন শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের বাড়ির আশপাশেই ডেটা সেন্টার নির্মাণ হচ্ছে।

কেউ সরাসরি এর প্রভাব দেখছেন, আবার কেউ অন্যদের কাছ থেকে এসব প্রকল্পের কথা শুনছেন। চক্রবর্তীর মতে, এআই মানুষের কাজের জায়গা দখল করতে পারে—এমন আশঙ্কার পাশাপাশি ডেটা সেন্টারের কারণে তৈরি হওয়া বাড়তি ব্যয় নিয়েও ভোটারদের উদ্বেগ রয়েছে। ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।

সমালোচকদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের বাড়তি চাহিদার কারণে আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যেতে পারে। চক্রবর্তী বলেন, ইরান যুদ্ধ বা শুল্কের মতো বৃহত্তর কারণেও জ্বালানির ব্যয় বাড়তে পারে। তবে বিদ্যুৎ গ্রিডে জায়গা ও সরবরাহের জন্য এআই খাতের প্রতিযোগিতাও এই খাতের অজনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

ভোটাররা নিজেদের বিদ্যুৎ বিলেই এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন। ডালাসের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ২০২৬ সালের একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, গত বছর পর্যন্ত ডেটা সেন্টারের কারণে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। স্বাধীন ডেটা সেন্টার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেট্রো কলো অ্যাডভাইজরির প্রতিষ্ঠাতা জেমস মার্সার আলজাজিরাকে বলেন, সম্ভাব্য বাড়তি ব্যয়ের আশঙ্কাই বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সংগঠিত করেছে।

তার ভাষায়, মানুষ আপত্তি করছেন এমন একটি ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে, যার বিদ্যুতের চাহিদা একটি ছোট শহরের সমান। তাদের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের বোঝা নিজেদের বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে তাদেরই বহন করতে হবে। মার্সার বলেন, এ কারণেই স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা দ্রুত বেড়েছে।

বিভিন্ন কাউন্টিতে নতুন প্রকল্প স্থগিত করা হচ্ছে, নির্মাণের অনুমতি ও ভূমি ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। এমনকি ডেটা সেন্টার নির্মাণ এখন সরাসরি ভোটের বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনি প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

জনমতের এই অবস্থান নির্বাচনি প্রচারেও প্রভাব ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনি লড়াইয়ে প্রার্থীরা এআই ও ডেটা সেন্টার নির্মাণকে প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেরড ব্রাউন।

তিনি ওহাইওতে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ওহাইওতেই ডেটা সেন্টার নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোটাভুটি হয়েছে। ২০২৬ সালে দেশজুড়ে ৪৭টি গণভোট ও প্রস্তাবের ওপর ভোট হয়।

এর মধ্যে ২১টিই ছিল ওহাইওতে ডেটা সেন্টার নির্মাণসংক্রান্ত। সাবেক সিনেটর ব্রাউন তার প্রচারে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জন হাস্টেডের ডেটা সেন্টার নির্মাণের পক্ষে অবস্থানকে আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার করেন। এ বছরের শুরুতে এনবিসি নিউজকে ব্রাউন বলেন, ডেটা সেন্টার নির্মাণের পক্ষে সবচেয়ে বেশি তৎপর ছিলেন একজনই।

তিনি হলেন জন হাস্টেড। টেক্সাসেও ডেটা সেন্টারবিরোধী অবস্থান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত নতুন ডেটা সেন্টারের অনুমোদন স্থগিত রাখার দাবি জানান।

তার এই অবস্থান টেক্সাসে প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত গভর্নর নির্বাচনে বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করেন হিনোজোসা। ইয়র্কভিল আইভস ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড্যান আইভস এক বিশ্লেষণী নোটে বলেন, অ্যাবট বর্তমানে টেক্সাসে ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থগিতাদেশ দিলেও ধারণা করা হচ্ছিল, পুনর্নির্বাচিত হলে তিনি তা তুলে নেবেন।

অন্যদিকে, হিনোজোসা ডেটা সেন্টারবিরোধী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিরুদ্ধেও তাঁর অবস্থান রয়েছে। ফলে টেক্সাসে ডেটা সেন্টার নির্মাণের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাস্তব হয়ে উঠেছে।

ডেমোক্র্যাটদের আরেক সফল প্রার্থী জেমস টালারিকোও রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসনে জয় পেয়েছেন। তিনি সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনি প্রচারে ডেটা সেন্টারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

এআই অবকাঠামোর পানির চাহিদা নিয়ে উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে টেক্সাস। বিশেষ করে করপাস ক্রিস্টি শহরে পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। এ বছরের শুরুর দিকে তীব্র খরার কারণে শহরটির জলাধারে পানির পরিমাণ ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশে নেমে এসেছিল।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শহরটিতে পানীয় জলের সরবরাহ ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। টালারিকো ডেটা সেন্টারে পানির ব্যবহার কমাতে আবদ্ধ চক্রের পানি ব্যবস্থাপনা চালুর প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের স্থানীয় অবকাঠামোর উন্নয়নে অর্থায়নের আহ্বান জানান।

করপাস ক্রিস্টিতে তিনি ১২ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পান। সিনেটের আরেক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ এআই শিল্পের তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেন। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে তিনি ৫২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন।

এআই শিল্পের ওপর বাড়তে পারে নজরদারি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে এআই শিল্পের ওপর আইনপ্রণেতাদের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

গুগল ডিপমাইন্ডের সাবেক গবেষক অ্যালেক্স টার্নার আলজাজিরাকে বলেন, এর ফলে এআই খাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির সম্ভাবনা বেড়েছে। এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে চান—এমন যেকোনো কংগ্রেস সদস্যকে তিনি পরামর্শ দিতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

গত ছয় মাসে একের পর এক নিরাপত্তা ব্যর্থতার ঘটনায় এআইকে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন কংগ্রেসের নেতারা। এর মধ্যে একটি ঘটনায় ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তি স্টার্টআপ হাগিং ফেসের ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। আরেক ঘটনায় এআই এজেন্টগুলো অনুমতি ছাড়াই ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের সুযোগ পায় বলে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অক্টোবরের শেষ দিকে অ্যানথ্রপিকের ক্লদ এআই মডেল জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের তথ্যেও প্রবেশ করেছিল। আগামী ৩ জানুয়ারি ১২০তম কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। এরপর ডেমোক্র্যাটরা এআই খাতের অনিয়ম ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে কংগ্রেসের তদারকি কমিটিগুলোকে কাজে লাগাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার আভাস স্পষ্ট হলে ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এড মার্কি নতুন তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, নতুন করে এত বেশি সমন জারি করা হবে যে সেগুলো ছাপানোর জন্য নতুন বন লাগাতে হবে। অ্যারিজোনার আরেক কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারিও এআইয়ের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান জানান।

তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের প্রথম দিনের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত উন্নত এআইয়ের বিকাশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা, নিয়ন্ত্রণহীন এই শিল্পের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্স নিষিদ্ধ করা। উদ্বেগ প্রশমনে উদ্যোগ, চাপে শেয়ারবাজার। নির্বাচনের ফলের পর ভোটারদের উদ্বেগ কমাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে আনছে।

নির্বাচনের পর ওপেনএআই ‘সেটিং আ নিউ স্ট্যান্ডার্ড ফর রেসপনসিবল এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শিরোনামে একটি নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি ডেটা সেন্টারে আবদ্ধ চক্রের পানি ব্যবস্থাপনা অথবা কম পানিনির্ভর শীতলীকরণ প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর ব্যয় নিজেরাই বহন করার অঙ্গীকার করেছে।

মঙ্গলবারের নির্বাচনের কয়েক দিন আগেই ওপেনএআই তাদের ডেটা সেন্টারগুলোকে নতুন নামে পরিচিত করার উদ্যোগ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি এগুলোকে ‘কম্পিউট ক্যাম্পাস’ হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করে। নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ওয়াল স্ট্রিটেও।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এআই শিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হতে পারে। এতে খাতটির কয়েকটি বড় প্রবৃদ্ধিনির্ভর শেয়ারের দরেও পতন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার এক দিনেই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার বাজারমূল্য কমে যায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার।

তবে শুক্রবার দিনের লেনদেনের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তারপরও আগের পাঁচ দিনের হিসাবে শেয়ারটির দর ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কম ছিল। ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরউইভের শেয়ারও বৃহস্পতিবার বড় দরপতনের মুখে পড়ে।

শুক্রবার তা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল। তবে আগের পাঁচ দিনের হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ১৬ শতাংশ কম ছিল। সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় মানুষের আপত্তি জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়, পানির সংকট এবং চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআইয়ের নিরাপত্তাঝুঁকি। নির্বাচনের ফলের পর এসব প্রশ্নে প্রযুক্তি শিল্পের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়ার আভাস মিলছে। আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।

সূত্র: আমার দেশ

মতামত (০)

এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।

আরও পড়ুন

24TV.Live ব্যানার
জাতীয়

বাইরে যেকোনো ষড়যন্ত্রের জবাব দেব: প্রধানমন্ত্রী

প্রায় ২০ বছর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আবার সরকার গঠনের পর এটা প্রথম ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’।নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দ...

24TV.Live ব্যানার
জাতীয়

নিউগিন প্রপার্টিজের ভেতরে ভাঙচুর ও মারামারি: গ্রেপ্তার ১৪

ছবি: সংগৃহীতরাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিউগিন প্রপার্টিজের ভেতরে হ...

24TV.Live ব্যানার
জাতীয়

দক্ষিণখানে নারীর মরদেহ উদ্ধার, পা ও গলায় কোপানোর আঘাত

রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকা থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সনি আক্তার (৩০) নামের ওই নারীকে কুপিয়ে হত্যা কর...

24TV.Live ব্যানার
জাতীয়

মিরপুরের পর মহাখালী টার্মিনালে বাসে আগুন

মহাখালী বাস টার্মিনালের পেছনের শেষ মাথায় সোহাগ পরিবহনের একটি বাস পার্কিং করা ছিল। রাত আনুমানিক ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা ওই বাসটিতে.....

বিজ্ঞপ্তি

এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।

মতামত দিন ↗
অ্যাপ ডাউনলোড Android Android TV