ঢাকা কলেজে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীতরাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না বলে দাবি করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অ...
ছবি: সংগৃহীতরাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না বলে দাবি করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের নায়েমের গলিসংলগ্ন দেয়ালে দুই বছরেরও বেশি আগে জুলাই বিপ্লবের সময় আঁকা গ্রাফিতিগুলো সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। মিরপুর রোডসংলগ্ন কলেজের সামনের অংশের গ্রাফিতিও মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তৎকালীন গ্রাফিতি অঙ্কনের নেতৃত্ব দেওয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি নাহিয়ান রেহমান রাহাত বলেন, কলেজ প্রশাসন জুলাইয়ের স্মৃতির বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তবে কোনোভাবেই জুলাইয়ের স্মৃতি, সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষা মুছে ফেলা যাবে না। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি আসার বিষয়টি ক্যাম্পাসের জন্য খুব ভালো ব্যাপার। কিন্তু তার জন্য পরিচ্ছন্নতার অজুহাতে দেয়াল থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলা যায় না।
গ্রাফিতি কি অপরিষ্কার। এটা তো ফ্যাসিস্ট ব্যাপার। আমরা মনে করি, তারা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে না বলেই পরিষ্কার করার নামে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলতে পারে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিল্লাদ হোসেন বলেন, কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে আসবেন। তাই সৌন্দর্য রক্ষার অংশ হিসেবে পুরো ক্যাম্পাসের দেয়ালে রং করা হচ্ছে। জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে রং করা হচ্ছে না।
পুনরায় গ্রাফিতিগুলো অঙ্কনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো আমরা আমাদের মতো করে অঙ্কন করব। সামাজিক সংগঠনগুলো চাইলে সুন্দর করে আবার অঙ্কন করতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াস বলেন, আমি ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময় পর্যন্ত এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম না।
পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি। কলেজে থাকাকালীন জানলে গ্রাফিটি মুছে ফেলতে নিষেধ করতাম। গ্রাফিতির ব্যাপারে আমাদের কোনোরকম নেতিবাচক নির্দেশনা নেই।
পুনরায় গ্রাফিতি অঙ্কন করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুছে ফেললে সেটা লিখে দিতে হবে। এদিকে দেয়াল থেকে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা কলেজ শাখা। একই সঙ্গে মুছে ফেলা গ্রাফিতি দ্রুত পুনরুদ্ধারসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ঢাকা কলেজের ১৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
ঢাকা কলেজে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।





মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।