জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একদিনের বিরতি শেষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মাধ্যমে এই বাণিজ্য কার্যক্রমের সূচনা হয়। এর আগে বুধবার এই দিবসটি পালনের উদ্দেশ্যে বন্দরের সকল প্রকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং অভ্যন্তরীণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। একদিনের এই বিরতি কাটিয়ে আজ সকাল থেকেই বন্দরের শ্রমিক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে পুরো বন্দর এলাকা।
হিলি স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে, ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির পাশাপাশি বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বুধবার সারাদিন ভারত থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি এবং বাংলাদেশ থেকেও কোনো ট্রাক ভারতে যায়নি। তবে একদিনের এই বিরতি শেষে আজ সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে ভারতীয় ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশ করতে শুরু করলে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। বন্দরের ভেতরে পণ্য খালাস এবং শুল্কায়নের কাজও পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
হিলি স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন যে, বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে তারা সর্বদা সচেষ্ট। একদিনের বন্ধের কারণে যে পরিমাণ ট্রাক সীমান্তে অপেক্ষমাণ ছিল, সেগুলোকে দ্রুত বন্দরে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, আলু, পাথর এবং বিভিন্ন ধরনের শিল্প কাঁচামাল। এই পণ্যগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের জন্য দ্রুত ট্রাক লোডিংয়ের কাজ চলছে।
বন্দরের অভ্যন্তরীণ চিত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শ্রমিকরা পণ্য খালাসের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ট্রাক চালকদের দীর্ঘ সারি এবং কাস্টমস হাউসে নথিপত্র যাচাইয়ের ব্যস্ততা বন্দরের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিলি স্থলবন্দর উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে সংগৃহীত রাজস্ব জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখে। তাই একদিনের বন্ধের পর কাজ শুরু হওয়ায় বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
হিলি স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্দরের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে অতিরিক্ত জনবল কাজ করছে। ভারতীয় ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশ করার পর দ্রুত সেগুলোর ওজন পরিমাপ এবং আনলোডিং সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, বন্দরের অভ্যন্তরীণ সকল শেড এবং ইয়ার্ডে মালামাল রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের জট সৃষ্টি না হয়।
উল্লেখ্য যে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়ে থাকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট হয়ে এই পণ্যগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কারণে এই বন্দরটি দেশের অন্যতম লাভজনক স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আজকের এই কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ের ধারাও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টির গতিপ্রকৃতি নীতিনির্ধারক ও সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।


এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!