সচ্ছলদের নামে বরাদ্দ, ৩৪ ঘরের ১৮টিই তালাবদ্ধ

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে সচ্ছল ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় প্রকল্পের ৩৪টি ঘরের মধ্যে ১৮টিই এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে সচ্ছল ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় প্রকল্পের ৩৪টি ঘরের মধ্যে ১৮টিই এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গত ৩ নভেম্বর বেতকা ইউনিয়নের দীপাডাঁ ও দক্ষিণ রায়পুরা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।
দীপাডাঁ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছয়টি ঘরের মধ্যে মাত্র তিনটিতে পরিবার বসবাস করছে, বাকি তিনটি ঘর সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ। অন্যদিকে, দক্ষিণ রায়পুরা এলাকায় নির্মিত ২৮টি ঘরের মধ্যে ১৫টি ঘরই তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। মাত্র ১৩টি ঘরে উপকারভোগীরা সপরিবারে থাকছেন।
তালাবদ্ধ ঘরগুলোর কয়েকটিতে স্থানীয়রা কাঠ ও লাকড়ি মজুত করে রেখেছেন, বাকি ঘরগুলো একেবারেই খালি পড়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের ঘর দেওয়া হয়েছে, যাদের নিজস্ব জমি, বাড়িঘর এবং ভালো আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে।
অথচ এই ইউনিয়নেই অনেক প্রকৃত ভূমিহীন, গৃহহীন ও অসচ্ছল পরিবার তীব্র আবাসন সংকটে ভুগলেও কোনো ঘর পায়নি। আর্থিক সচ্ছলতার কারণে বরাদ্দপ্রাপ্তরা এসব ঘরে থাকছেন না, যার ফলে সরকারি বিপুল ব্যয়ে নির্মিত ঘরগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যাদের থাকার জায়গা নেই, তারা ঘর পায়নি।
আর যাদের সব আছে, তারা ঘর পেয়ে তালা মেরে রেখেছে। ’ এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে সচ্ছলদের নামে দেওয়া বরাদ্দ বাতিল এবং প্রকৃত গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে বেতকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া জানান, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তালাবদ্ধ থাকা বা সচ্ছলদের বরাদ্দের বিষয়ে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
সচ্ছলদের নামে বরাদ্দ, ৩৪ ঘরের ১৮টিই তালাবদ্ধ—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।





মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।