ছবি: সংগৃহীতভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। একই সঙ্গে রাহুলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘আসামে আসুন, আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব।’ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে...
ছবি: সংগৃহীতভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। একই সঙ্গে রাহুলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘আসামে আসুন, আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব। ’ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার হিমাচল প্রদেশের শিমলায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও ও নৈরাজ্য দূর করো’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন হিমন্ত। এর আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর কড়া বক্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণে নামেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্যে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, বাংলাদেশিদের এখানে কোনো জায়গা নেই।
রাহুলজি, বাংলাদেশিদের প্রতি আপনার যদি এতই দরদ থাকে, তাহলে বাংলাদেশে যান। সেখানে গিয়ে নির্বাচন লড়ুন। এরপর রাহুল গান্ধীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনি বরং আসামে আসুন।
আমি আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব। রাহুলের বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতির প্রসঙ্গ টেনে হিমন্ত আরো বলেন, রাহুল আসামে এলে তিনি এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তার জন্য প্যারাসুটে অবতরণের ব্যবস্থা করবেন। এ সময় কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী।
তার দাবি, কংগ্রেস আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। ভারতে সরকার পরিবর্তন জনগণের ভোটের মাধ্যমেই হয় উল্লেখ করে হিমন্ত বলেন, ভোটাররা ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রের (ইভিএম) মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করেন। তিনি আরো দাবি করেন, কংগ্রেস শুধু ইভিএমেই নয়, ব্যালট পেপারের নির্বাচনেও পরাজিত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্য নির্বাচনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এর আগে রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সমাবেশ করে বিরোধী জোট। সমাবেশে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন রাহুল গান্ধী।
একই সঙ্গে তাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। রাহুল তার বক্তব্যে বলেন, আমরা অহিংসাবাদী। নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ আমাদের শত্রু নন।
কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে-ই হোন না কেন, সংবিধানের চেয়ে বড় কেউ নন। রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের পরই বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাহুলকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
রাহুল গান্ধীকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠাতে চান আসামের মুখ্যমন্ত্রী—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, রাজনীতি অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!