মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় পুলিশ সদস্যের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার এবং পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই পুলিশ সদস্যের পরিবারের ভাষ্য, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ওই পুলিশ সদস্য মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুন...
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার এবং পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই পুলিশ সদস্যের পরিবারের ভাষ্য, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ওই পুলিশ সদস্য মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আবুল কালাম (৩৫) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য। তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।
.আবুল কালামের বোন সুমাইয়া আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত-পা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাঁর ভাইয়ের পা তিন টুকরা হয়ে গেছে। আরেকটা পা দুই টুকরো হয়ে গেছে।
ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই পায়ে রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করে আসছিলেন। গত মাসে মাসাবো এলাকার মাদক কারবারি শাহাদাত হোসেন (৩২) ও এমদাদুল হককে (২৯) পুলিশে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেন তিনি। এর পর থেকে শাহাদাতের ছোট ভাই শাহজালাল বিভিন্ন সময় আবুল কালামকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
.আবুল কালামের বাবা আবদুল মালেক সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল ফোন করে আবুল কালামকে বাড়ি থেকে ডেকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে শাহজালালসহ ১০ থেকে ১৫ জন যুবক তাঁর ওপর হামলা চালান। মারধর করে আবুল কালামের ডান হাত ও বাঁ পা ভেঙে দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁর ডান পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। আবুল কালামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
.আবুল কালামকে মেরে ফেলার জন্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করেন কালামের বাবা আবদুল মালেক। তিনি জানান, তাঁর ছেলের অবস্থা তেমন ভালো নয়। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এপিবিএন সদস্য আবুল কালাম হবিগঞ্জ জেলায় কর্মরত ছিলেন।
গত মাসে তাঁর অন্যত্র বদলি হলেও সেখানে এখনো যোগদান করেননি। বাড়িতে এলে মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেননি।
অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় পুলিশ সদস্যের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম আলো ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।


মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।