পরিবর্তন আসছে জামায়াতের দলীয় কাঠামোতে

প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে। গঠন করা হচ্ছে উপদেষ্টা পরিষদ। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা মনে করছেন, গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে। গঠন করা হচ্ছে উপদেষ্টা পরিষদ। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা মনে করছেন, গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্বাহী পরিষদ দলের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় আলোচনার পর দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হবে। দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হলে এই পরিষদের সদস্যদের কাছ থেকে আসা মতামতের ভিত্তিতে নির্বাহী পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
উপদেষ্টা পরিষদে আমলা, কূটনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। তবে তাদের শপথধারী (রুকন) সদস্য হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। জামায়াতের একাধিক সূত্র বলছে, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে দলের অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।
নির্বাচনের পর বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভাব ও বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর দলটির নীতিনির্ধারকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দলের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। দলের দেশে-বিদেশে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীরা এমন পরামর্শ দেন। এরপর ২১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদে এ নিয়ে আলোচনা হয়।
উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জনসমর্থন বাড়ছে। বিগত নির্বাচনে আমরা এর প্রতিফলন দেখেছি। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে দেশ পরিচালনায় জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়।
স্বাভাবিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। এ কারণে দলে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরো জানান, দল পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মহিলা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় রয়েছেন ১২২ জন নারী সদস্য।
এছাড়া রুকনদের (সদস্য) মধ্যে নারী সদস্য রয়েছেন প্রায় ৪৩ শতাংশ। মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, দলের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় মহিলা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন উপদেষ্টা পরিষদে যদি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ সংযুক্ত হন, তাহলে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরো বহু মতের প্রতিফলন ঘটবে।
জামায়াতে ইসলামীর উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলার চৌধুরী। তিনি বলেন, দলের কাঠামোগত অনড় অবস্থানের বাইরে এসে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের যদি মতামত নেওয়া হয়, তাহলে দলটি রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরো বলেন, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এই উপদেষ্টা পরিষদ আসলেই কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা অবশ্য দেখার বিষয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
পরিবর্তন আসছে জামায়াতের দলীয় কাঠামোতে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।



মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।