চট্টগ্রাম নগরে যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) হত্যা মামলায় নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওরফে জুয়েল এবং তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গতকাল রোববার রাতে পৃথক অভিযানে ঢাকা থেকে জিল্লুর এবং কুমিল্লা থেকে তাঁর সহযোগী ...
চট্টগ্রাম নগরে যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) হত্যা মামলায় নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওরফে জুয়েল এবং তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গতকাল রোববার রাতে পৃথক অভিযানে ঢাকা থেকে জিল্লুর এবং কুমিল্লা থেকে তাঁর সহযোগী মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় গত ২৭ অক্টোবর রাতে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন আবু ইউসুফ।
হামলায় তাঁর ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা পা কেটে ফেললেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। পরদিন ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি একটি আইসক্রিম কারখানায় কাজ করতেন। .এ ঘটনায় আবু ইউসুফের বাবা গোলাম নবী বাদী হয়ে জিল্লুরসহ ১৫ জনকে আসামি করে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা করেন। এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
নিহত আবু ইউসুফ জিল্লুরের অনুসারী ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে জিল্লুর ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় আবু ইউসুফের ধারণ করা একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই ভিডিওতে তিনি জিল্লুর, ইকরাম বাবু ও আরমানের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাত ও গুলি করার অভিযোগ করেন। .পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবু ইউসুফ গত দুই বছর নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুরের অনুসারী হিসেবে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি তিনি যুবদলের রাজনীতি ছেড়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান ওরফে শিমুলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
এরপর জিল্লুরের ভাগনে মেহেদী ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে আবু ইউসুফের বিরোধ তৈরি হয়। এ বিরোধের জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। .অভিযোগের বিষয়ে ঘটনার পর প্রথম আলোর কাছে জিল্লুর রহমান দাবি করেছিলেন, আবু ইউসুফ যুবদলের কেউ ছিলেন না।
তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর মোবারক আলীর সঙ্গে থাকতেন। তবে আবু ইউসুফ তাঁর ভাগনের বন্ধু ছিলেন বলে তাঁকে সহায়তা করতেন। জিল্লুর বলেন, ‘তবে তাঁকে আমি মারিনি।
নিজেরা নিজেরা মারামারি করেছে।
পক্ষ ছাড়ায় কর্মীকে খুনের অভিযোগ, চট্টগ্রামের সেই যুবদল নেতা গ্রেপ্তার—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম আলো ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, খেলাধুলা অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!