ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় বাড়ছে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি

সৌদি বিমান হামলায় আহত মেয়েকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে এক বাবা। ৭ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্সইয়েমেনে চলমান সংঘাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে। রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে হুতিরা। ত...
সৌদি বিমান হামলায় আহত মেয়েকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে এক বাবা। ছবি: রয়টার্সইয়েমেনে চলমান সংঘাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে। রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে হুতিরা।
তাদের অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া লাশ উদ্ধারের সময় উদ্ধারকর্মীদেরও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সানায় হুথিদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে বানি হুশাইশ জেলার আল-শারিয়াহ গ্রামে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী।
গ্রামটি একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। হুথিদের অভিযোগ, হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে যান উদ্ধারকর্মীরা। এ সময় তাদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।
তবে হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে দেশটির বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। হুথিরা ক্রমবর্ধমান হতাহতের জন্য সৌদি বিমান হামলাকে দায়ী করছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের কর্মকর্তাদের দাবি, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বেশির ভাগের জন্য দায়ী হুথিরা। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নতুন করে কলেরার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা। সংস্থাগুলোর সতর্কতা অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষেরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন শিবিরে ভিড় করছেন। এসব শিবিরে অতিরিক্ত মানুষের বসবাসের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘনবসতিপূর্ণ শিবির পানিবাহিত রোগ, বিশেষ করে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। বর্তমানে ইয়েমেনের বিভিন্ন সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্বেগটি শুধু একটি অঞ্চলকে ঘিরে নয়, বরং দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহর এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা থেকে। এসব অঞ্চলে হুথি ও পশ্চিমা সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে। সংঘাতের বিস্তৃতি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় বাড়ছে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।





মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।