আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার ৬ পরিণতি

মানবজীবনের প্রকৃত সাফল্য, আত্মিক বিকাশ ও মানসিক স্বস্তি নির্ভর করে স্রষ্টার সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের ওপর। আর এই সম্পর্কের সেতু হলো আল্লাহকে সবসময় স্মরণে রাখা।আল্লাহর স্মরণ শুধু কতগুলো শব্দের উচ্চারণ নয়; এটি বান্দার অন্তর, ভাষা ও আচরণের সমন্বয়ে আল্লাহর সার্বক্ষণিক উপস্থিত...
মানবজীবনের প্রকৃত সাফল্য, আত্মিক বিকাশ ও মানসিক স্বস্তি নির্ভর করে স্রষ্টার সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের ওপর। আর এই সম্পর্কের সেতু হলো আল্লাহকে সবসময় স্মরণে রাখা। আল্লাহর স্মরণ শুধু কতগুলো শব্দের উচ্চারণ নয়; এটি বান্দার অন্তর, ভাষা ও আচরণের সমন্বয়ে আল্লাহর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি অনুভবের এক আলোকোজ্জ্বল পথ।
আর আল্লাহকে ভুলে গেলে মানুষের আত্মা মরে যায়, বিভ্রান্তি ও ধ্বংসে নিপতিত হয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হওয়ার পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে। .আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, জীবনের সব শান্তি ও মানসিক স্বস্তি হারিয়ে যায়।
তখন বস্তুগত সুবিধা থাকলেও মানুষ আত্মিক অশান্তি ও মানসিক সংকীর্ণতা থেকে উঠে আসতে পারে না। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে বড় সংকটময়। আর কেয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ করে উঠাব।
’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১২৪).‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি, অতঃপর সে হয় তার নিত্যসঙ্গী। সুরা জুখরুফ, আয়াত: ৩৬.মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবকে স্মরণ করে এবং যে ব্যক্তি তার প্রতিপালককে স্মরণ করে না, তাদের দুজনের উপমা হলো জীবিত ও মৃতের ন্যায়। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪০৭).যে হৃদয়ে আল্লাহর জিকির থাকে না, সেই হৃদয় শয়তানের স্থায়ী আস্তানায় পরিণত হয়।
শয়তান তখন সেই মানুষকে পাপের পথকে সুন্দর করে দেখিয়ে গোমরাহির অতল গহ্বরে ঠেলে দেয়। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি, অতঃপর সে হয় তার নিত্যসঙ্গী। ’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত: ৩৬).সুন্দর থাকুন, আল্লাহ সৌন্দর্য ভালোবাসেন.মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শয়তান বনি আদমের ওপর জেঁকে বসে, যখন সে আল্লাহর জিকির করে, শয়তান আত্মগোপন করে পালিয়ে যায়; আর যখনই সে আল্লাহর জিকির থেকে উদাসীন হয়, শয়তান তার মনে কুচিন্তা ও প্ররোচনা ঢালতে শুরু করে।
’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ২২৮১).নিয়মিত জিকির না করার ফলে মানুষের কলব বা হৃদয় দিনে দিনে শক্ত হয়ে যায়। ফলে ভালো কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকে না এবং পাপের প্রতি কোনো ভয় বা অনুশোচনা কাজ করে না। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘সুতরাং ধ্বংস সেই কঠোরপ্রাণ মানুষদের জন্য, যারা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ।
তারা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিপতিত। ’ (সুরা জুমার, আয়াত: ২২).আল্লাহর স্মরণ ত্যাগ করলে আস্তে আস্তে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। অন্তর তখন দুনিয়াবি নানা চিন্তায় মগ্ন থাকে।
তখন মানুষের মাঝে নেফাকের লক্ষণ প্রকাশ পায়। .আল্লাহর স্মরণ ত্যাগ করলে আস্তে আস্তে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে, অথচ তিনিই তাদের ধোঁকায় ফেলে রেখেছেন।
যখন তারা নামাজে দাঁড়ায়, অলসভাবে দাঁড়ায়। আর তারা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। ’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪২)আসরের নামাজে বিলম্বকারী ও উদাসীনদের সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘এটা মুনাফিকের নামাজ; সে বসে সূর্যের অপেক্ষা করতে থাকে, অবশেষে যখন তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝামাঝি পৌঁছায়, তখন সে উঠে দ্রুত চারটি ঠোকর মারে।
আল্লাহকে সে খুব কমই স্মরণ করে। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬২২).মহান আল্লাহ কোথায় আছেন.যারা দুনিয়াতে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ, এ ব্যাপারে নিজেকে অন্ধ বানিয়ে রাখে, পরকালে আল্লাহ–তাআলা তাকে দৃষ্টিহীন অবস্থায় ওঠাবেন। এটি হবে তার জন্য পরম লাঞ্ছনা ও শাস্তির বিষয়।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আর যে আমার উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে বড় সংকটময়। আর কেয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ করে ওঠাব। সে বলবে, “হে আমার রব।
কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় তুললেন। আমি তো দৃষ্টিমান ছিলাম। ” আল্লাহ বলবেন, “এভাবেই আমার আয়াতসমূহ তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে।
আজ সেভাবেই তোমাকেও ভুলে যাওয়া হলো। ”’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১২৫-১২৬)মহানবী (সা.) বলেন, ‘যারা কোনো মজলিশে বসল অথচ সেখানে আল্লাহর জিকির করা হলো না এবং তাঁর নবীর ওপর দরুদ পড়া হলো না, সেই মজলিশ কেয়ামতের দিন তাদের জন্য চরম আফসোস ও ক্ষতি কারণ হবে। চাইলে আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন অথবা চাইলে ক্ষমা করবেন।
’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮০).হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহ সম্পর্কে উদাসীন করতে না পারে। আর যারা এমন করবে, তারাই চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত। ’সুরা মুনাফিকুন, আয়াত: ৯.পার্থিব ধোঁকা, ধন-সম্পদ বা সন্তান–সন্ততির মোহ মানুষকে আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল করে রাখে।
ফলে মানুষ পরকালের আসল মূলধন হারিয়ে চরম ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহ সম্পর্কে উদাসীন করতে না পারে। ’ (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত: ৯)আল্লাহর স্মরণ ছেড়ে দেওয়া জীবন্ত রুহের জন্য সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী বিষয়।
জিকিরহীন হৃদয় একটি নির্জন ও শুষ্ক ভূমির মতো, যেখানে আত্মিক স্বস্তির আগমন ঘটে না। পার্থিব ধোঁকা ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচতে হলে দৈনন্দিন সব কর্মব্যস্ততার মাঝে রবের স্মরণে মুখর থাকা জরুরি। শুধু জিকিরে অভ্যস্ত জীবনের মাধ্যমেই দুনিয়ায় মানসিক স্থৈর্য এবং পরকালে স্থায়ী সফলতা অর্জন করা সম্ভব।
মাহমুদ হাসান ফাহিম : আলেম ও লেখক.অপরাধীকে আল্লাহ যেভাবে শাস্তির আওতায় আনেন।





মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।