দেশের বিশাল নৌপথে নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। সন্ধ্যার পর দুর্গম চর ও মোহনাগুলোতে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ জেলে, নৌশ্রমিক ও যাত্রীরা।
বাংলাদেশের বিশাল নৌপথগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে খুন, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীভিত্তিক অপরাধ দমনে নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও অনেক সময় নিয়মিত টহল ও অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হচ্ছেন, যা সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে নদীপারের দুর্গম চর, মোহনা এবং দূরপাল্লার নৌপথগুলো অপরাধীদের নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় জেলে, লঞ্চ ও ট্রলারের নৌশ্রমিক এবং সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীপথে চাঁদাবাজি এখন ওপেন সিক্রেট। মাছ ধরার ট্রলার, বাল্কহেড এবং যাত্রীবাহী জলযান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে সশস্ত্র গ্যাংগুলো। যারা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে যান, তাদের ওপর চালানো হয় বর্বরোচিত হামলা। এমনকি পুলিশি অভিযানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা তথ্যের অভাব এবং আধুনিক নৌযানের ঘাটতির কারণে পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
নৌপথের এই নৈরাজ্য রোধে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ টহল জোরদারের কথা বলা হলেও সমন্বিত ও স্থায়ী পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নদী নিরাপত্তার বিষয়টি কেবল স্থানীয় থানার ওপর ছেড়ে না দিয়ে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড এবং বিজিবিকে নিয়ে একটি যৌথ কমান্ড বা বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, জলযানে আধুনিক জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে নদীপথের গুরুত্ব অপরিসীম। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌপথে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার বিকল্প নেই। অন্যথায় এই অপরাধপ্রবণতা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।