ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে গত ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী কর্মী।
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের চলমান হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই নিরাপত্তার কড়াকড়ির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকা এবং রিয়াদের মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সৌদি আরবগামী মোট ১৪১টি ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটেছে, যার ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন প্রায় ২২ হাজার বিমানযাত্রী।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবের আকাশসীমায় এবং বিমানবন্দরগুলোতে লজিস্টিক ও অপারেশনাল জটিলতা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ছাড়তে না পারা এবং শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে যেসব প্রবাসী কর্মীর ভিসার মেয়াদ বা আকামার সময়সীমা শেষ পর্যায়ে রয়েছে, তারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক যাত্রীকে বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত ফ্লাইট না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
এয়ারলাইন্সগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে পুনর্বিন্যাস করার কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে হঠাৎ করে এই ধরনের ফ্লাইট জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর ওপরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে টিকিট রিইস্যু এবং হোটেল বুকিং নিয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের এই ধরনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে এভিয়েশন খাতে এই সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া কিংবা পরবর্তীতে কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই আসন নিশ্চিত করার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ফ্লাইট শিডিউল দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।