চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানে নতুন মার্কিন হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে কিছু জানেন না।
ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সম্প্রতি এক কূটনৈতিক মন্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহের শেষেই ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দেয়।
তবে এই মন্তব্যের পরপরই হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায় থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত সুর শোনা গেছে। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। রাষ্ট্রদূতের দাবির বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অজ্ঞাত বলে মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য কূটনৈতিক মহলে বড় ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকেই এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসার পেছনে ভিন্ন কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে পারে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব বজায় রাখতে কড়া বার্তা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নিজেই বিষয়টি থেকে দূরত্ব বজায় রেখে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করছেন। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বনেতৃত্ব এখন হোয়াইট হাউস এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকের মন্তব্য এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অজ্ঞতার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমেও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, যা অদূর ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নতুন কোনো মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।