রোনান সুলিভানকে অন্তর্ভুক্ত করে সাফ টুর্নামেন্টের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তবে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকা শাকিল আহাদ, মঞ্জুরুর রহমান ও শাহরিয়ার ইমনের মতো তরুণরা প্রাথমিক এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রাথমিক দল চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। কোচিং প্যানেল ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) যৌথ পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘোষিত এই স্কোয়াডে বড় চমক হিসেবে রাখা হয়েছে প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভানকে। দেশের ফুটবলের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে এই দল গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যের মিশেল ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন এই দলটির পারফরম্যান্সের ওপর, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে মরিয়া লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ঘোষিত এই প্রাথমিক স্কোয়াডে রোনান সুলিভানের অন্তর্ভুক্তি বেশ ভালোভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এর উল্টো পিঠেই রয়েছে কিছু উল্লেখযোগ্য বাদ পড়ার ঘটনা। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হলেও, শাকিল আহাদ, মঞ্জুরুর রহমান এবং শাহরিয়ার ইমনের মতো উদীয়মান ফুটবলারদের নাম সাফের এই প্রাথমিক তালিকায় রাখা হয়নি। কোচের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন থেকেই এই বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত এসেছে বলে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দল গঠনের এই প্রক্রিয়ায় ঘরোয়া লিগের পারফরম্যান্সকেও বড় মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়েছে।
বাফুফে ও জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের জন্য সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করতেই এই প্রাথমিক স্কোয়াড সাজানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রতিপক্ষ দলগুলোর কৌশল বিশ্লেষণ করেই খেলোয়াড় বাছাই করা হয়েছে। বাদ পড়া ফুটবলারদের জন্য এটি সাময়িক ধাক্কা হলেও তাদের উন্নতির সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, স্কোয়াডে ডাক পাওয়া নতুন ও পুরোনো মুখেরা অনুশীলনে নিজেদের নিংড়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সবসময়ই একটি আলাদা আবেগ ও গুরুত্ব রয়েছে। জাতীয় দলের এই স্কোয়াড ঘোষণার পর থেকে দেশের ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবল উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আশানুরূপ ফলাফল আনতে স্কোয়াডের ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি। সমর্থকদের প্রত্যাশা, কোচের কৌশলে রোনান সুলিভান ও অন্যান্যরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের হয়ে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবেন এবং বিগত আসরগুলোর ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়বেন।
প্রাথমিক এই দল থেকে চূড়ান্ত স্কোয়াড গঠনের আগে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ম্যাচ অনুশীলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোচিং স্টাফের পরবর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্যাম্প শুরু হবে এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর মাধ্যমে দলের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো ঝালাই করে নেওয়া হবে। বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দল পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামবে বলেই সবার প্রত্যাশা।
২৪টিভি লাইভ-এর সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণে মনে করা হয়, সাফ ফুটবলের মতো প্রতিযোগিতায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। রোনান সুলিভানকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তরুণ কিছু প্রতিভাকে বিশ্রামে রাখা বা বাদ দেওয়ার বিষয়টি কোচিং প্যানেলের সাহসী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ঘরোয়া ফুটবল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ ফুটবলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।