রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে দৃষ্টি কেড়েছে ২৫ ফুট উঁচু এক বিরল সিরিয়াস ক্যাকটাস, যা ছাড়িয়ে গেছে পাশের দোতলা ভবনকে।
টবের ছোট গাছ কিংবা কাঁটাভরা পাতার চিরচেনা ক্যাকটাসের চেয়ে এটি সম্পূর্ণ আলাদা। রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে (বোটানিক্যাল গার্ডেন) এখন দর্শনার্থী ও উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে সুবিশাল এক ক্যাকটাস। উচ্চতায় এটি ইতিমধ্যে ২৫ ফুট ছাড়িয়েছে, যা পাশের দোতলা অতিথি ভবনের ছাদকেও অতিক্রম করেছে। গাছটি যাতে হেলে না পড়ে, সে জন্য কাণ্ডে ছয়টি লোহার রিং বা বেড়ি দিয়ে শক্ত করে আটকে রাখা হয়েছে।
উদ্ভিদ উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের স্থানীয় এই গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘সিরিয়াস হেক্সাগোনাস’ (Cereus hexogonus), যা স্থানীয়ভাবে ‘ব্লু সিরিয়াস’ বা ‘টল কলামনার ক্যাকটাস’ নামে পরিচিত। ব্রাজিলের পারা ও রোরাইমা রাজ্যের বনাঞ্চলে এর প্রাকৃতিক বংশবৃদ্ধি দেখা যায়।
মায়ের স্মৃতি থেকে জাতীয় উদ্যানে
গাছটির পেছনের গল্পটি বেশ আবেগঘন। প্রায় আট বছর আগে মোহাম্মদপুরের এক বাসিন্দা তাঁর প্রয়াত মায়ের স্মৃতিবিজড়িত শখের এই গাছটি উদ্যানে দান করেন। তিনি বিদেশে চলে যাওয়ার সময় গাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে উদ্যান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। উদ্যানের প্রবীণ মালি আবদুল আলিম জানান, গাছটি রোপণের কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কাণ্ড ছাড়তে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে এই দানবাকৃতি রূপ নেয়।
ক্যাকটাস হাউসে ৭২ প্রজাতির সমাহার
১৯৯২ সালে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে গড়ে তোলা বিশেষায়িত ‘ক্যাকটাস হাউস’-এ বর্তমানে ৭২ প্রজাতির ক্যাকটাস সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ড, ভারত ও নেপাল থেকে সংগৃহীত মেলোক্যাকটাস, ম্যামেলারিয়া, নটোক্যাকটাস, ফেরোক্যাকটাস, ওল্ড ম্যান এবং প্রায় ৩০ বছর বয়সী বিরল ‘গোল্ডেন ব্যারেল’ উল্লেখযোগ্য।
জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের পরিচালক শওকত ইমরান আরাফাত বলেন, ‘শুধু সৌন্দর্য উপভোগই নয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উদ্ভিদ গবেষকদের মাঠপর্যায়ের ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণার বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে আমাদের এই ক্যাকটাস সংগ্রহশালা।’