কার্তিকের ভোরে প্রকৃতিতে যখন হালকা কুয়াশা আর শিশিরের মৃদু পরশ, তখন ঋতু বদলের সেই অনুভূতি ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জীবনালেখ্য নিয়ে প্রকাশিত হলো কবি আলীম হায়দারের কবিতা গুচ্ছ ‘হাওয়ায় হাওয়ায় হেমন্ত খুলছে দোপাট্টা’।
শরতের সাদা কাশফুল যখন ফিকে হতে শুরু করে এবং ভোরের বাতাসে শিরশিরে শীতলতা নেমে আসে, তখন প্রকৃতি জানিয়ে দেয় হেমন্তের আগমনী বার্তা। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বাংলা কবিতায় প্রকৃতির মায়াবী রূপ ও নাগরিক একাকীত্বের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন কবি আলীম হায়দার। প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকী ‘অন্য আলো’য় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একগুচ্ছ কবিতা।
কবিতাগুলোতে একদিকে যেমন রয়েছে ভাদ্র-আশ্বিনের মেঘমুক্ত নীল আকাশ ও কুয়াশাচ্ছন্ন পুবের রোদের বর্ণনা, অন্যদিকে ফুটে উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষের মাটি কামড়ে বেঁচে থাকার অপরূপ সৌন্দর্য।
হাওয়ায় হাওয়ায় হেমন্ত খুলছে দোপাট্টা
ভোরের হাওয়ায় হাওয়ায় হেমন্ত খুলছে দোপাট্টা
ঘুমভাঙা উদল গায়ে শিফন শীতলতা
দূরের কাশবন হারাতে শুরু করেছে নিজস্ব শাদা
সেদিনের ঝড়ো মেঘে মিলে গেছে শরতের শুভ্রতা
পড়ন্ত আশ্বিন কুয়াশা কুয়াশা...
শিশমহলে-মহলে সেজে ওঠে তেপান্তরের তৃণলতা
পুবের আকাশ কুসুম কুসুম, শান্ত নদীর ঢেউয়ে ভেজা—
বুনো কুলের ফুলে ফুলে বাড়ছে বুলবুলির আনাগোনা
শ্রমজীবী মানুষের অমর অবয়ব
শুধু ঋতুবর্ণনাই নয়, মেহনতি মানুষের প্রতি কবির দায়বদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে কবিতার শেষাংশে। রোদে পোড়া কৃষকের ঘামে ভেজা শরীরে জীবনের প্রকৃত মাধুর্য খুঁজে পেয়েছেন কবি:
তোমাদের কণ্ঠ নীরব, না পাওয়ার অনুযোগ নেই কোনো
অনাহারি চোখেও সুখের দোলাচলে চকচকে দ্যুতি
শেষ বিকেলের শোভা বাড়ায় জলদি পায়ের হাটমুখী গতি
রোদে পোড়া চামড়ার আলাদা সৌন্দর্য থাকে
ঘামে ভেজা মাটিমাখা শরীরের রূপ অনবদ্য
বৃষ্টি তোমার বন্ধু, রৌদ্রের সখা তুমি,
ধরিত্রী হাসে তোমার মুখে, কিষাণ রূপে কে তুমি, জানে অন্তর্যামী!
শব্দচয়নের প্রাচুর্য ও অনুভূতির সূক্ষ্ম গাঁথুনিতে সাজানো এই কবিতাগুলো পাঠককে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ইট-পাথরের কোলাহল ছেড়ে গ্রামীণ বাংলার স্নিগ্ধতায় নিয়ে যায়।