আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে তিরিশ পেরোলেই অবসরের পদধ্বনি শোনা যায়, সেখানে ৫২ বছর বয়সে টেস্ট ম্যাচ খেলে এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪ হাজারের বেশি উইকেট শিকার করে অমর হয়ে আছেন উইলফ্রেড রোডস।
আজকের দ্রুতগতির ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ধরে রেখে চল্লিশ ছোঁয়াই এক অসম্ভব স্বপ্ন। অথচ আজ থেকে প্রায় এক শতাব্দী আগে ইংল্যান্ডের এক অলরাউন্ডার ৫২ বছর ১৬৫ দিন বয়সে মাঠে নেমে টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন। ক্রিকেট ইতিহাসের এই অমর বরপুত্র হলেন উইলফ্রেড রোডস। ২৯ অক্টোবর এই কিংবদন্তির জন্মবার্ষিকীতে বিশ্ব ক্রিকেট তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।
১৮৭৭ সালের ২৯ অক্টোবর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের কার্কহিটন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রোডস। ১৮৯৯ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া এই ধীরস্থির বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছিলেন ১৯৩০ সালে, কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলার মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার টিকে ছিল টানা ৩১ বছর!
অবিশ্বাস্য ৪,২০৪ উইকেটের বিশ্বরেকর্ড
উইলফ্রেড রোডসের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান দেখলে আধুনিক যে কোনো ক্রিকেটপ্রেমীর চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মোট ১,১১০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে শিকার করেছেন অবিশ্বাস্য ৪,২০৪টি উইকেট। ক্রিকেটের ইতিহাসে আর কোনো বোলার চার হাজার উইকেটের এই মহাকাব্যিক মাইলফলকের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি।
শুধু বল হাতেই নয়, ব্যাট হাতেও তিনি ছিলেন সমান কার্যকর। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর মোট রান ৩৯,৯৬৯। ৫৮টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তাঁর রয়েছে ডাবল সেঞ্চুরিও। এক মৌসুমে ১,০০০ রান ও ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি (ডাবল) তিনি গড়েছেন ক্যারিয়ারে রেকর্ড ১৬ বার!
টেস্ট ক্রিকেটে অনন্য বহুমুখিতা
ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৫৮টি টেস্ট খেলেছেন রোডস। নিয়েছেন ১২৭টি উইকেট এবং করেছেন ২,৩২৫ রান। টেস্ট ক্রিকেটে এক বিরল রেকর্ডের অধিকারী তিনি—১১ নম্বর পজিশন থেকে শুরু করে ইনিংসের ওপেনিং পর্যন্ত সবকটি ব্যাটিং পজিশনে ব্যাট করার বিরল গৌরব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯১২ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জ্যাক হবসের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে রোডসের ৩২৩ রানের পার্টনারশিপ আজও টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা কীর্তি হিসেবে গণ্য হয়।
বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা এবং আত্মনিবেদন থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করা যায়, উইলফ্রেড রোডসের ক্রিকেট জীবন তার সর্বকালের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।