কাজের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের মূল্যবান সময় হারানোর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। ৫৬ বছর বয়সে এই উপলব্ধি না হলে আরও বড় ভুল হয়ে যেত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমির খান সম্প্রতি নিজের জীবনদর্শন এবং অতীত কর্মজীবন নিয়ে এক গভীর আত্মমূল্যায়নমূলক মন্তব্য করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম এবং কেবল কাজের পেছনে অবিরাম ছোটাছুটির কারণে তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটানো বহু সুন্দর মুহূর্ত হারিয়েছেন বলে মনে করেন। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, জীবনের একটি বড় সময় তিনি কাজের পেছনে ব্যয় করেছেন, যার ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং মানসিক প্রশান্তির দিকটি কিছুটা হলেও অবহেলিত হয়েছে।
আমির খান জানান, ৫৬ বছর বয়সে এসে তিনি জীবনের প্রকৃত অর্থ এবং অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছেন। তার মতে, এই উপলব্ধি যদি আরও দেরিতে অর্থাৎ ৮৬ বছর বয়সে আসত, তবে তা শুধরে নেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকত না। তাই জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি নিজের ভুলত্রুটিগুলো উপলব্ধি করতে পেরে স্বস্তি বোধ করছেন এবং ভবিষ্যতে সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চান। পেশাগত সফলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা যে কতটা জরুরি, তা এখন তিনি মর্মে মর্মে অনুধাবন করছেন।
চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে কাজ করে আসছেন আমির খান। 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট' হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতা প্রতিটি কাজের পেছনে শতভাগ মনোযোগ দিলেও এর জন্য তাকে ব্যক্তিগত জীবনে মূল্য দিতে হয়েছে। অতীতে কাজকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়ার কারণে পরিবার ও ঘনিষ্টজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে না পারার আক্ষেপ তার দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমান সময়ে এসে তিনি তার জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন এবং কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তার এই মন্তব্য বলিপাড়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আধুনিক কর্মব্যস্ত সমাজে ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে মানুষ কীভাবে নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন থেকে দূরে সরে যায়, আমির খানের এই বক্তব্য তারই এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। মনস্তত্ত্ববিদ ও সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সফলতার অন্ধ দৌড়ে জীবনের মূল আনন্দ হারিয়ে ফেলার পর এই ধরনের বোধোদয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমিরের এই খোলাখুলি স্বীকারোক্তি তরুণ প্রজন্ম ও অন্যান্য পেশাজীবীদের জন্য একটি বড় বার্তা হয়ে থাকবে, যা তাদের জীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে উৎসাহিত করবে।