ইসলাম ধর্মে দান-সদকার বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও এর সঠিক ব্যবহার ও উপযুক্ত খাত নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। সঠিক স্থানে সাহায্য পৌঁছানোর মাধ্যমে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা সম্ভব।
ইসলাম ধর্মে দান ও সদকার রয়েছে অনন্য মর্যাদা। মানবকল্যাণ ও সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে এটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তবে যত্রতত্র দান না করে সঠিক ও উপযুক্ত খাত নির্বাচন করা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী দান করার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও নীতিমালা রয়েছে, যা যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত আবশ্যক।
বিশেষজ্ঞ আলেম ও ইসলামি গবেষকদের মতে, দান করার ক্ষেত্রে প্রথমেই অগ্রাধিকার দিতে হবে নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীদের। যারা অভাবগ্রস্ত অথচ লজ্জায় কারো কাছে হাত পাতেন না, তাদের খুঁজে বের করে সহযোগিতা করা সর্বোত্তম। এরপর দুস্থ, এতিম, অসহায় এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে দান ও সদকার অর্থ ব্যয় করা উচিত। এতে কেবল দান গ্রহীতার আত্মসম্মান রক্ষা পায় না, বরং সমাজে সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে, জনৈক ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এমন কোনো স্থানে বা খাতে দান করা উচিত নয় যা সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কিংবা শরিয়তের পরিপন্থী। প্রচার বা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে দান করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া যেসব ক্ষেত্রে অর্থের অপচয় বা অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয়ের আশঙ্কা থাকে, সেখানে দান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া চ্যারিটির নামে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে অর্থ প্রদান থেকেও বিরত থাকা উচিত।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী দান করলে তার দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যায়। এটি কেবল সাময়িক ক্ষুধা নিবারণ করে না, বরং গরিব মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সহায়তা করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রমে সদকার অর্থ ব্যয় করলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পায় এবং সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
ভবিষ্যতে দানশীলতার এই সংস্কৃতিকে আরও সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ করতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের উচিত নিজের দানের অর্থ সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা। ২৪টিভি লাইভ-এর সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ বলছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দান-সদকার মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক চিত্র পুরোপুরি বদলে ফেলা সম্ভব।