ইংলিশ ফুটবল কাপের ইতিহাসে রচিত হলো এক অবিস্মরণীয় রূপকথা। ৮৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা চতুর্থ স্তরের অখ্যাত ক্লাব ফ্লিটউড টাউনের অদম্য লড়াই ও পেনাল্টি শুটআউটের নাটকীয়তায় স্তব্ধ হয়ে কারাবাও কাপ থেকে ছিটকে গেল পরাশক্তি আর্সেনাল।
ফুটবল যে কেন বিশ্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও অনিশ্চয়তার খেলা, তারই এক ঐতিহাসিক প্রমাণ মিলল কারাবাও কাপের নকআউট পর্বে। ইংল্যান্ডের চতুর্থ স্তরের ক্লাব ফ্লিটউড টাউন টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়ে দিলো প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে। পুরো ৯০ মিনিট ১-১ গোলে সমতায় শেষ হওয়ার পর নাটকীয় টাইব্রেকারে রূপকথা লিখে মাঠ ছাড়ে অখ্যাত ফ্লিটউড।
মাঠে ড্রোন আতঙ্ক ও ফ্লিটউডের চমকপ্রদ সূচনা
ফ্লিটউডের হোম গ্রাউন্ডে খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরই স্টেডিয়ামের আকাশে অজ্ঞাত ড্রোন চক্কর দিতে থাকায় খেলা সাময়িক বন্ধ থাকে। বিরতি কাটিয়ে মাঠে ফিরেই ২১ মিনিটে অ্যারন লুপালোর চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে আর্সেনাল সমতায় ফিরলেও ম্যাচের শেষলগ্নে আর্সেনালের ম্যাক্স ডাউম্যান লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে গানার্সদের ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়।
গোলকিপার লিঞ্চের অদম্য প্রাচীর ও পেনাল্টির নাটক
ফ্লিটউডের জয়ের মূল নায়ক তাদের গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। নির্ধারিত সময়ে তিনি আর্সেনালের নিশ্চিত একাধিক গোল ক্ষিপ্রতার সাথে রুখে দেন। টাইব্রেকারেও আর্সেনাল তারকার শট ফিরিয়ে দিয়ে নায়ক বনে যান তিনি। শেষ শটে কিশোর ডিফেন্ডার কনর হহি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে পৌঁছে দেন লিগ কাপের শেষ আটে।
“আমার নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছে না! বিশ্বের অন্যতম সেরা পরাশক্তি আমাদের মাঠে খেলতে এসেছিল এবং আমার ছেলেরা বুক চিতিয়ে লড়াই করে তাদের পরাজিত করেছে। এটি আমাদের ক্লাবের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ রাত।” — ম্যাট ললোর, ফ্লিটউড কোচ
মিকেল আরতেতার চরম হতাশা
মূল তারকাদের মাঠে নামিয়েও এই ঐতিহাসিক অঘটন ঠেকাতে পারেননি আর্সেনাল বস মিকেল আরতেতা। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ ফ্লিটউড টাউনের লড়াকু মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি এবং নিজের দলের সমর্থকদের কাছে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেন।