দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অকৃত্রিম বন্ধুত্বের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে একটি আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্বকে অনন্য উচ্চতায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টোকিওতে সফল শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে সূচনা হলো এক নতুন দিগন্তের।
বন্ধুত্বের পাঁচ দশক পেরিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের আত্মিক বন্ধন এবার রূপ নিচ্ছে এক ঐতিহাসিক কৌশলগত অংশীদারত্বে। জাপানের রাজধানী টোকিওতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পর এক বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসার সম্পর্ককে সাধারণ মানুষের কল্যাণে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
৬.৩ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান
বৈঠকে বিদ্যুৎ, মেগা অবকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাপানি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে দেশের লাখো তরুণ-তরুণীর জন্য বিশ্বমানের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
একই সাথে দেশের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও সবুজ জ্বালানি নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ তহবিল থেকে সহজ শর্তে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পাওয়ার পথও সুগম হয়েছে।
“আসুন, আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল আগামী বিনির্মাণ করি। আমাদের এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন যেন দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে দেখা দেয়।” — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন ও আধুনিক নগর যোগাযোগ
বৈঠকে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগকে বিশ্বমানের করতে জাপানের বিখ্যাত বুলেট ট্রেনের আদলে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং আধুনিক উড়াল সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবনা গুরুত্ব পায়। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে যৌথ উদ্যোগে একটি বিশ্বমানের হাইটেক পার্ক স্থাপনের বিষয়েও চূড়ান্ত ইতিবাচক সম্মতি এসেছে।
শান্তি ও সমৃদ্ধির যৌথ অঙ্গীকার
দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও বেগবান করার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে শান্তি, সম্প্রীতি ও একটি মুক্ত-উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।