বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি ঘিরে গড়ে উঠছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম শিল্প ও বাণিজ্যিক করিডোর। মহেশখালী ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ‘বিগ-বি’ মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথভাবে ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার সূচনা করেছে বাংলাদেশ ও জাপান।
বঙ্গোপসাগরের সুনীল জলসীমায় রচিত হচ্ছে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সোনালী ভবিষ্যৎ। টোকিওতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) মেগাপ্রকল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। উপকূলীয় ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে মাতারবাড়ী অঞ্চলকে আধুনিক বিশ্ব বাণিজ্যের এক অপরাজেয় করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘বিগ-বি’ প্রকল্পের তিনটি মূল চালিকাশক্তি
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের সমন্বয়ে বাস্তবায়নাধীন এই মহাপরিকল্পনার মূল স্তম্ভগুলো হলো:
- মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর: বিশাল মাদার ভ্যাসেল বা পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি ভেড়ার আধুনিক টার্মিনাল, যা আমদানি-রপ্তানি খরচ এক ধাক্কায় বহুলাংশে কমিয়ে দেবে।
- জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ হাব: মাতারবাড়ী ও মহেশখালী এলাকায় পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য শক্তির সমন্বয়ে গড়ে তোলা বিশাল বিদ্যুৎ হাব।
- বিশ্বমানের শিল্প করিডোর: ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে এক্সপ্রেসওয়ে ও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বৃহৎ বিনিয়োগের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
আঞ্চলিক সংযোগ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর শুধু বাংলাদেশেরই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য সমুদ্রপথে বাণিজ্যের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে পুরো বঙ্গোপসাগর অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও লাভজনক অর্থনৈতিক করিডোরে রূপান্তরিত হবে।
“বিগ-বি উদ্যোগটি একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিময় ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে অসামান্য অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।” — বাংলাদেশ-জাপান যৌথ ঘোষণা
অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি
অর্থনীতিবিদদের মতে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি সচল হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমে যাবে এবং পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বেঁচে যাবে অর্ধেকেরও বেশি। এটি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূলধারায় এক মর্যাদাপূর্ণ উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।