বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীতে দিন দিন অবনতি ঘটছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির। চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং গোলাগুলির ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী দিন দিন অপরাধীদের নিরাপদ জোনে বা অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। একসময়কার এই প্রাণবন্ত ব্যবসা কেন্দ্রে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা তো বটেই, এমনকি দিনের আলোতেও বিভিন্ন পয়েন্টে ঘটছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া উৎপাত। স্কুল-কলেজপড়ুয়া ও বখাটে যুবকদের নিয়ে গঠিত এসব গ্যাং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং প্রায়শই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলো বর্তমানে অসামাজিক কার্যকলাপ ও অপরাধচক্রের নিরাপদ ঘাঁটিতে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং কঠোর আইনগত পদক্ষেপের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলির ঘটনাও নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যে এক ধরনের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যার পর থেকে দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে এই অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাণিজ্যের ওপর। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন।
এইহেন পরিস্থিতিতে চৌমুহনীর সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে যৌথ বাহিনী ও পুলিশের জোরদার টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি উঠেছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এই বাণিজ্যিক শহরটি পুরোপুরি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।